

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ ছিল বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক মহাকাব্যিক অধ্যায়। দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনা যখন তৃতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের মুকুট পরল, তখন তা কেবল লিওনেল মেসির স্বপ্নপূরণ ছিল না, ছিল এক অনন্য পরিসংখ্যানের জন্ম দেওয়া। সেই বিশ্বজয়ের মিশনে আর্জেন্টিনা গড়েছিল এমন এক রেকর্ড, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি।
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্টে মোট পাঁচটি পেনাল্টি পায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এটি এক আসরে কোনো দলের সর্বোচ্চ পেনাল্টি পাওয়ার রেকর্ড। এর আগে ১৯৬৬ সালে পর্তুগাল এবং ১৯৭৮ সালে নেদারল্যান্ডস সর্বোচ্চ চারটি করে পেনাল্টি পাওয়ার রেকর্ড গড়েছিল। আর্জেন্টিনা সেই রেকর্ড ভেঙে নিজের নামে নতুন ইতিহাস লিখেছে।
কাতারে আর্জেন্টিনার পাওয়া পাঁচটি পেনাল্টির সবগুলোই নিয়েছিলেন দলের প্রাণভোমরা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এরমধ্যে সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া এবং ফ্রান্সের বিপক্ষে চারটি পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন মেসি। পোল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের একটি পেনাল্টি মিস করেন তিনি।
আর্জেন্টিনার এই শিরোপা জয়ে স্পট কিকগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নকআউট পর্বের নাটকীয়তা নিয়ন্ত্রণে এই পেনাল্টিগুলো বড় ভূমিকা রাখে। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া এবং ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে পাওয়া পেনাল্টিগুলো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম গোপন চাবিকাঠি ছিল এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে ঠান্ডা মাথায় কাজে লাগানোর সক্ষমতা।
ম্যাচ পাতিয়ে বিশ্বকাপ জয়, তাই বাপ-দাদার আমলের গল্প করে না আর্জেন্টিনা!ম্যাচ পাতিয়ে বিশ্বকাপ জয়, তাই বাপ-দাদার আমলের গল্প করে না আর্জেন্টিনা! শুধু শিরোপা জয় নয়, এই রেকর্ডটি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে একটি বিশেষ অবস্থানে বসিয়েছে। ফুটবলের মহাযজ্ঞে অনেক দলই পেনাল্টির সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু একটি আসরে পাঁচবার স্পট কিকের সুযোগ পাওয়ার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।
কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করতে গেলে লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের পাশাপাশি এই পেনাল্টির পরিসংখ্যানটিও চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি কেবল একটি রেকর্ড নয়, বরং আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের যাত্রাকে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলেছিল।
