

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বকাপ এলেই পৃথিবীর নানা প্রান্তের সমর্থকদের বিচিত্র গল্প সামনে আসে। ২০২৬ বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি ২২ বছর বয়সী এক স্কটল্যান্ড সমর্থক লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বোস্টন পর্যন্ত ৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ হেঁটে এসে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। আবার মেক্সিকোর জার্সি পরা একটি হাঁসের ভিডিও–ও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত রোববার (১৪ জুন) নেটিজেনদের নজর কেড়েছেন তুরস্কের এক সমর্থক। ভ্যাঙ্কুবারের বিসি প্লেসে তুরস্ক বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত এই ভক্তের অনন্য চেহারা মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেজদেত ওলচেরমান নামের এই তুর্কি সমর্থক পরিচিত উদি নেকো নামে।
হাঙ্গেরিয়ান সংবাদমাধ্যম টেলেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ওলচেরমান তুরস্কের ক্লাব বেসিকতাসের একনিষ্ঠ সমর্থক। ক্লাবটির প্রধান রং কালো ও সাদা হওয়ায় তিনি নিজের পুরো মুখ কালো রঙে রাঙান, শুধু চুল ও দাড়ি সাদা রাখেন। তিনি তুরস্কের জাতীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তুর্কিশ ঝঁদার্মারির সাবেক সদস্য। এছাড়া তিনি বেসিকতাসের সভাপতি হাসান আরাতের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে উদি নেকো বেশ জনপ্রিয়, এবং বেসিকতাস ও তুরস্ক জাতীয় দলের অধিকাংশ ম্যাচেই তাকে দেখা যায়।
তবে মাঠের লড়াইয়ে তুরস্কের অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে।
ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তুরস্কের তরুণ তারকা আর্দা গুলের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ার তরুণ আক্রমণভাগ।
অস্ট্রেলিয়া রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছিল এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের ওপর ভরসা করেছিল। অসুস্থতা কাটিয়ে ফেরা মোহামেদ তোরে ও নেস্টরি ইরানকুন্ডা সামনে থেকে আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন।
তাদের গতি ও সরাসরি আক্রমণ তুরস্কের রক্ষণকে বারবার সমস্যায় ফেলে। তুরস্ক বলের দখল ধরে রাখলেও স্পষ্ট গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
২৭তম মিনিটে ইরানকুন্ডা দুর্দান্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণের প্রদর্শন করে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন। এটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ গোল এবং আবারও প্রমাণ করেছেন কেন ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পুরো ম্যাচে তুরস্ক বলের দখল ও লক্ষ্যে শটের সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও সেই আধিপত্যকে গোলে রূপ দিতে পারেনি। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ছিল সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। তারা তুরস্কের আক্রমণভাগের জন্য জায়গা কমিয়ে দেয় এবং শেষ তৃতীয়াংশে কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
গুলের বল পেয়েছেন অনেকবার, কিন্তু প্রতিবারই সোনালি জার্সিধারী অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের ঘেরাটোপে পড়েছেন। ফলে তিনি বিপজ্জনক এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।
গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচও নিজের নির্বাচনের যথার্থতা প্রমাণ করেছেন। ম্যাথু রায়ানের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়ে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন এবং অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগকে অটুট রাখেন।
পরবর্তী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া সিয়াটলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে।
