শুক্রবার
১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৬২ বছরের পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসালেন তামিম

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

একটি সেঞ্চুরিই তানজিদ হাসান তামিমের নাম তুলে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসিয়েছেন এই তরুণ ওপেনার। তার ব্যাটে ভর করে ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ।

তবে তামিমের এই সেঞ্চুরি শুধু দলের লিড নিশ্চিত করেই থেমে থাকেনি, গড়ে দিয়েছে একাধিক ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার এখন তানজিদ হাসান তামিম। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল হান্নান সরকারের ৭৬ রান। সেই রেকর্ড পেছনে ফেলে এবার নতুন ইতিহাস লিখলেন তামিম।

শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটেই নয়, এশিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসেও বিশেষ এক তালিকায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় এশীয় ব্যাটার তানজিদ। এর আগে ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের কিংবদন্তি হানিফ মোহাম্মদ এই কীর্তি গড়েছিলেন। দীর্ঘ ৬২ বছর পর সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি নাম।

তামিমের ইতিহাসগড়া দিনে ডারউইন টেস্টে দারুণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৫১ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১৫৩ রানে। হাতে রয়েছে আরও চারটি উইকেট।

বাংলাদেশের বড় লিডের ভিত গড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তামিম করেন ১০১ রান, আর শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই নিজের সামর্থ্যের দারুণ প্রমাণ দিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী তামিম। পুরো ইনিংসজুড়ে ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও নিয়ন্ত্রিত। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেও তার ব্যাটিংয়ে ছিল না কোনো বাড়তি তাড়াহুড়া।

তবে ৬২ রানে থাকা অবস্থায় একবার জীবন পেয়েছিলেন তামিম। নাথান লায়নের বলে ফার্স্ট স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্ভরযোগ্য ফিল্ডার হিসেবে পরিচিত স্টিভ স্মিথ সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি।

এরপর দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝি সময়ে লায়নের বল মিড-অফ দিয়ে ঠেলে দিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছে যান তামিম। সেঞ্চুরি করতে তিনি খেলেন ১৮৮ বল। ইনিংসটি সাজানো ছিল আটটি চারে। এর সঙ্গে নাথান লায়নকে হাঁকানো একটি বিশাল ছক্কাও ছিল তার ইনিংসে।

তবে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি তামিম। নাথান লায়নকে আক্রমণ করে বল সীমানাছাড়া করতে গিয়ে ডিপ মিড-অফে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

তার বিদায়ের পরও অবশ্য বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ম্যাচের পরিস্থিতি। তামিমের ইতিহাসগড়া সেঞ্চুরি এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের জন্য নতুন আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank