

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিরিজের ভাগ্য আগেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। প্রথম দুই ওয়ানডেতে হেরে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ খোয়ানো বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচে নেমেছিল কেবল হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে। সেই ম্যাচেই দেখা গেল ভিন্ন এক বাংলাদেশকে। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের পর ওপেনারদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেন বাংলাদেশের বোলাররা। নতুন বলে শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ দ্রুত দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন।
প্রথম দিকে ধাক্কা খেলেও ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরে জুটি গড়ে জিম্বাবুয়ের ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কাইয়া ২৫ রানের বেশি করতে পারেননি। এরপর সিকান্দার রাজা ও ক্লিভ মাদান্দেও ব্যর্থ হন।
এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেন মাধেভেরে। তার ৭৫ রানের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা। শেষ দিকে ব্র্যাড ইভান্সের ৫০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে জিম্বাবুয়ে দুই শ রানের কাছাকাছি পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানে অলআউট হয় তারা।
বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন। তাসকিন আহমেদ ও তানভীর ইসলাম পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
১৯৯ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য কঠিন হওয়ার কথা ছিল না, সেটিই প্রমাণ করেছেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বোলারদের চাপে ফেলেন তাঁরা।
প্রথম ১০ ওভারেই বিনা উইকেটে ৫৯ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ। এরপরও থামেনি দুই ওপেনারের দাপট। সাবলীল ব্যাটিংয়ে দুজনই তুলে নেন ফিফটি এবং গড়ে তোলেন ১৫১ রানের বড় উদ্বোধনী জুটি।
দারুণ ছন্দে থাকা সৌম্য ৮২ বলে ৬৯ রান করে ফিরে যান। এরপরও বাংলাদেশের জয়ের পথে কোনো সমস্যা হয়নি। তিনে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি গড়ে তানজিদ দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন।
সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছেও আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয়েছে তানজিদকে। ৯৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। এরপর তাওহিদ হৃদয় দ্রুত ফিরে গেলেও শান্ত ও নুরুল হাসান সোহান বাকি কাজ শেষ করেন।
২৮ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন শান্ত। ৮৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই জয়ে সিরিজের ব্যবধান কমেছে, তবে হারানো যায়নি সিরিজ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছে জিম্বাবুয়ে। এখন দুই দল প্রস্তুতি নিচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য, যা শুরু হবে ১৫ জুলাই বুলাওয়েতে।