

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেটি অবৈধ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ ঢাকার ৪৫টি ক্লাবের সংগঠক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
রোববার এনএসসির নির্বাহী পরিচালকের কাছে দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অভিযোগ তোলা হয়। নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন প্যানেল জয়লাভ করলেও অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি হয়েছে।
অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী ক্লাব প্রতিনিধিদের মতে, ঢাকার ৭৬টি ক্লাবের একটি বড় অংশ শুরু থেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল এবং অনেকেই তা বর্জন করেন। তাদের দাবি, বিপুল সংখ্যক ক্লাবের মতামত উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে জয়ী করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অভিযোগ জমা দেওয়ার পর তামিম ইকবাল গণমাধ্যমকে বলেন, ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে প্রায় ৫০টি ক্লাব নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তার ভাষায়, “এত সংখ্যক ক্লাব যদি বলে নির্বাচন সঠিক হয়নি, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা দরকার।”
ক্লাব সংগঠকরা নির্বাচনের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বর্তমান বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা যাচাই করা জরুরি।
এ বিষয়ে ক্লাব সংগঠক মাসুদুজ্জামান বলেন, তারা এনএসসিকে বিগত সময়ের নানা ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন এবং দ্রুত তদন্তের আবেদন করেছেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ সংগঠকদের অংশগ্রহণের সুযোগও সীমিত করা হয়েছিল।
ক্লাব প্রতিনিধিরা আরও অভিযোগ করেন, কাউন্সিলরশিপ বণ্টন ও ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। তাদের মতে, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
এদিকে নির্বাচনের পর দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন সংগঠকরা। তাদের মতে, লীগ নিয়মিত না হওয়ায় ক্রিকেটাররা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং অনেক ক্লাব খেলা থেকে দূরে রয়েছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, তারা ন্যায়সঙ্গত তদন্ত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চান। তাদের আশা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রিকেট প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের ক্রিকেট আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে।
মন্তব্য করুন
