

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোর রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফর্মে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকালে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-যশোর রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন ও প্রভাতী ট্রেন চালুর দাবিতে আবারও জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃত্ব দেন কমিটির সদস্য সচিব রুহুল আমিন এবং সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক কাওছার আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বিটু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিপংকর দাশ রতন, যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ, সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা শাখার সদস্য সচিব তসলিমুর রহমান ও যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
লিখিত বক্তব্যে রুহুল আমিন বলেন, “ঢাকা-যশোর পদ্মাসেতু রেল প্রকল্প” নামে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও যশোরবাসী এখনও কাঙ্ক্ষিত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত। প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়ে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণ হলেও বর্তমানে এই রুটে দিনে মাত্র একটি ট্রেন চলাচল করছে, যা জনগণের চাহিদা ও বিনিয়োগের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি হচ্ছে ভোরবেলা যশোর থেকে ঢাকাগামী একটি আন্তনগর ট্রেন চালু করা, যাতে যাত্রীরা সকালে ঢাকা গিয়ে অফিস ও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে রাতে আবার যশোরে ফিরতে পারেন। একইসাথে ঢাকা থেকে রাতের দিকে যশোরমুখী ট্রেন চালুর দাবিও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বেনাপোল, দর্শনা, যশোর, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক যাত্রী রেলপথ ব্যবহার করতে আগ্রহী। তাই নতুন ট্রেন চালু হলে বাংলাদেশ রেলও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
কমিটির নেতারা জানান, ২০২৩ সাল থেকে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে চারবার মানববন্ধন, দুইবার ট্রেন অবরোধ, তিনবার সংবাদ সম্মেলন, ছয়বার স্মারকলিপি প্রদান এবং রেল সচিব ও মহাপরিচালকের সঙ্গে একাধিক বৈঠক। এছাড়া যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি রেলমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
তাদের অভিযোগ, রেল সচিব ও ডিজি বারবার আশ্বাস দিলেও ২০২৬ সালের মার্চের পর নতুন কোচ এলেই প্রভাতী ট্রেন চালুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, মে মাস শেষ হতে চললেও তার বাস্তব কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী জুন মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। অন্যথায় আগামী ৬ জুলাই দুপুর ১টায় যশোর রেলস্টেশন প্লাটফর্মে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। একইসাথে দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে:
যশোর-ঢাকা রুটে নতুন প্রভাতী আন্তনগর ট্রেন চালু,
ঢাকা-যশোর রুটে আরও দুটি আন্তনগর ট্রেন বৃদ্ধি,
আন্তনগর ট্রেনে সাধারণ বগি সংযোজন,
দর্শনা-খুলনা ও বেনাপোল-যশোর রুটে রেললাইন চালু,
সীমান্তভিত্তিক কমিউটার ট্রেন চালু,
রেলকে দেশের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।