

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ না নেওয়ার ঘোষণার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানতে চেয়েছে, কী কারণে নির্ধারিত সূচির এই ম্যাচটি খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পিসিবি।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ম্যাচটি না খেলার পেছনের কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে পাকিস্তান বোর্ডকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পিসিবি ইতোমধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে আইসিসিকে তাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। সেখানে পাকিস্তান বোর্ড উল্লেখ করেছে, সরকারের সরাসরি নির্দেশনার কারণেই তারা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারছে না। পিসিবির দাবি, এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নয়; বরং পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত।
তবে এ সিদ্ধান্ত এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। আইসিসি এখনো আশা করছে, পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ম্যাচ খেলতে রাজি হতে পারে। সংস্থাটি পর্দার আড়ালে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচ বর্জনের কারণে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বাস্তব সুযোগ খুব বেশি নেই।
আইসিসির টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ চুক্তিতে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা সরকারের হঠাৎ জারি করা নির্দেশনার মতো কারণে কোনো বোর্ড যদি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটিকে আইনগত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না। এই বিধানের আওতায় সরকারি নির্দেশনাকে গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে ধরা হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিসিবি ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মন্ত্রিসভার বৈঠকেও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বিষয়টিকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতির সঙ্গে যুক্ত করেন। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ আগেই ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করলেও আইসিসি তা গ্রহণ করেনি এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আইসিসির মেম্বারস পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্টের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ফোর্স ম্যাজিউর দাবি করতে হলে চারটি শর্ত পূরণ করতে হয়। ঘটনাটি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হতে হবে, তা চুক্তিগত দায়িত্ব পালনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করতে হবে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণসহ আইসিসিকে জানাতে হবে এবং ক্ষতি কমাতে বোর্ডকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে।
এখন দেখার বিষয়, পিসিবি কী ধরনের নথি ও যুক্তি আইসিসির সামনে উপস্থাপন করে। আইসিসি জানিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললে টুর্নামেন্টের যে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, তার ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার সংস্থার রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, এ নিয়ে সরাসরি সংঘাতে যেতে তারা আগ্রহী নয়।
তবুও আইসিসি তাদের সংবিধানের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। কোনো সদস্য বোর্ড চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন করলে, প্রয়োজনে সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতাও সংস্থার হাতে রয়েছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য বিরোধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে পিসিবিও। বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক বিরোধে গড়ালে তারা নিজেদের পক্ষে পাল্টা যুক্তি তুলে ধরবে। সে ক্ষেত্রে ২০১৪ সালে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রসঙ্গ সামনে আনা হতে পারে। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ছয়টি সিরিজ আয়োজনের কথা থাকলেও ভারতীয় বোর্ড তা বাস্তবায়ন করেনি। বিষয়টি পরে আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে গড়ায়।
যদিও সেই মামলায় পিসিবি আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায়নি, তবে ভারত সরকারের অনুমতির অভাবকে যুক্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই রায়কে দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে পাকিস্তান।
পাকিস্তান দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান সংশয় প্রকাশ করার পর থেকেই আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে নীরব আলোচনা শুরু হয়। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই জটিলতা শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, সেটিই এখন বিশ্ব ক্রিকেটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
মন্তব্য করুন

