

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র মক্কার সাফা ও মারওয়া সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অবস্থিত বৃহত্তর আবু কুবাইস ও কাইকান পর্বতদ্বয়ের সঙ্গে সংযুক্ত দুটি ছোট পাহাড়। এই পাহাড়দ্বয় হজ ও ওমরাহর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। হজ ও ওমরাহর অংশ হিসেবে এই দুই পাহাড়ের মাঝে সাতবার আসা-যাওয়া করতে হয়, যা ‘সায়ী’ নামে পরিচিত। প্রতিবছর এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে।
মসজিদুল হারাম শরিফ থেকে সাফা পাহাড় প্রায় ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত এবং মারওয়া পাহাড় প্রায় ৩৫০ মিটার দূরে অবস্থিত। সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ৩০০ মিটার। সাতবার আসা-যাওয়া করতে মোটামুটি ২.১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। পাহাড়দ্বয় ও মধ্যবর্তী পথ বর্তমানে একটি দীর্ঘ গ্যালারির ভেতরে অবস্থিত, যা মসজিদুল হারামের অংশ।
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর আদেশে তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-কে অল্প কিছু খাদ্যদ্রব্যসহ সাফা ও মারওয়ার কাছে মরুভূমিতে রেখে যান। খাবার ও পানি শেষ হয়ে গেলে হাজেরা (আ.) পানির সন্ধানে এই দুই পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়ে যাতায়াত করেন। এ সময় তিনি শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-কে একা রেখে যান।
প্রথমে তিনি আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য সাফা পাহাড়ে ওঠেন। কোনো কাফেলার সন্ধান পেলে সেখান থেকে সামান্য পানি সংগ্রহের আশায় ছিলেন তিনি। কিছু না পেয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী মারওয়া পাহাড়ে ওঠেন। মরুভূমিতে মরীচিকা দেখে পানির আশায় তিনি দৌড়ে যান। বারবার দৃষ্টিভ্রম হওয়া সত্ত্বেও সামান্য পানির আশায় তিনি এভাবে সাতবার চলাচল করেন।
শেষবার ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, ক্রন্দনরত শিশু ইসমাইল (আ.)-এর পায়ের আঘাতে মাটি ফেটে পানির ধারা বের হচ্ছে। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.)-এর আঘাতেই এই পানির উৎস সৃষ্টি হয়। বিবি হাজেরা (আ.) এই পানির ধারা পাথর দিয়ে বেঁধে দেন। পরবর্তীতে এটি ‘জমজম কূপ’ নামে পরিচিত হয়।
এই ঘটনার স্মরণে আজও হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার আসা-যাওয়া বা সায়ী করে থাকেন।
মন্তব্য করুন
