

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


খুলনা-১, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এটি খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা নিয়ে গঠিত এবং জাতীয় সংসদের ৯৯ নম্বর আসন হিসেবে পরিচিত।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশেষ করে প্রথমবারের মতো জামায়াত সনাতন সম্প্রদায়ের নেতা কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করায় আসনটি জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচিত।
খুলনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,০৭,১০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৫২,২৮৫ এবং নারী ভোটার ১,৫৪,৮১৪। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৯টি।
এবারের নির্বাচনে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই প্রার্থীরা হলেন: বিএনপি থেকে আমীর এজাজ খান (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে কৃষ্ণ নন্দী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. আবু সাঈদ (হাতপাখা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে প্রসেনজিৎ দত্ত (তারা), স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ হালদার (কলস), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে কিশোর কুমার রায় (কাস্তে), জাতীয় পার্টি থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট থেকে সুনীল শুভ রায় (মোমবাতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিন্ত কুমার মণ্ডল (ঘোড়া), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) থেকে প্রবীর গোপাল রায় (রকেট), গণঅধিকার পরিষদ থেকে জিএম রোকনুজ্জামান (ট্রাক) এবং বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) থেকে সুব্রত মণ্ডল (দোয়াত-কলম)।
বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খান এর আগে তিনবার এই আসনে নির্বাচন করলেও জয়ী হতে পারেননি। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। প্রচারণায় তিনি ভোটারদের বলছেন, এতদিন আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে, এবার পরিবর্তনের সময় এসেছে।
জামায়াত সনাতন সম্প্রদায়ের নেতা কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দেওয়ায় ভোটের মাঠে নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। শুরুতে জামায়াত এই আসনে শেখ মো. আবু ইউসুফকে প্রার্থী ঘোষণা করলেও ৩ ডিসেম্বর ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
অতীতে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা তেমন ভালো করতে পারেনি; ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তাদের প্রার্থী মাত্র ২,৩০৮ ভোট পেয়েছিলেন।
কৃষ্ণ নন্দী তার প্রচারণায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। এই আসনের ভোটার কাঠামোও নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
দাকোপ উপজেলায় ৫৪.৪৪ শতাংশ এবং বটিয়াঘাটায় ২৭.৫৬ শতাংশ মানুষ হিন্দুধর্মাবলম্বী। মোট ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।
এতে আসনের নির্বাচনী সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে সিপিবি প্রার্থী কিশোর কুমার রায়ও স্থানীয়ভাবে বহুল জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে পরিচিত।
অতীত নির্বাচনের ইতিহাসও এই আসনের রাজনৈতিক দিকচিহ্ন স্পষ্ট করে। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত সব জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে।
১৯৯১ সালে শেখ হারুনুর রশিদ, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা, ১৯৯৬ সালের উপনির্বাচনে পঞ্চানন বিশ্বাস, ২০০৮ সালে ননী গোপাল মণ্ডল, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পঞ্চানন বিশ্বাস এবং ২০২৪ সালে ননী গোপাল মণ্ডল নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আওয়ামী লীগ নেতারাই এই আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন।
স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, ভোটের ফলাফল নির্ধারণে আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং সংখ্যালঘু ভোটাররা মুখ্য ভূমিকা রাখবেন। হেনস্তার আশঙ্কায় অনেক ভোটার প্রকাশ্যে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নিতে দ্বিধা করছেন। তবুও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
দীর্ঘদিন একপেশে বলে পরিচিত খুলনা-১ আসন এবার পরিণত হয়েছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আলোচিত আসনে। নির্বাচনী মাঠে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী, যিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় উন্নয়নকে নির্বাচনী প্রচারণার মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন।
মন্তব্য করুন
