

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতেই ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে ব্যালন ডি’অর নিয়ে জোর আলোচনা। অতীতের মতো এবারও বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স পুরস্কারের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও একক কোনো ফুটবলারকে নিরঙ্কুশ ফেভারিট বলা যাচ্ছে না।
২০০৬ সালে ইতালিকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হয়েও ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ফ্যাবিও কানাভারো। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে এই সম্মান পান লুকা মদরিচ। আর ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর অষ্টমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন লিওনেল মেসি।
তবে ২০২৬ সালে পরিস্থিতি ভিন্ন। স্পেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও এমন কোনো খেলোয়াড় নেই, যাকে নির্দ্বিধায় ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে বড় দাবিদার বলা যায়। এই প্রেক্ষাপটে স্পোর্টস স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএন (DAZN) তাদের সর্বশেষ পাওয়ার র্যাংকিং প্রকাশ করেছে।
১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড)
ডিএজেডএনের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপে ৬ গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মৌসুমে ৭০ গোল করার পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা শিরোপাও জিতেছেন। যদিও ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিততে পারেনি এবং বায়ার্ন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রানার্সআপ হয়েছে, তবুও পুরো মৌসুমের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে শীর্ষে রেখেছে।
২. লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন)
হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে খেললেও স্পেনের বিশ্বজয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা জয়ের পথেও ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। বিশ্লেষকদের মতে, টুর্নামেন্টের শেষভাগে আরও ধারাবাহিক হতে পারলে তিনিই হতে পারতেন শীর্ষ দাবিদার।
৩. রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি/স্পেন)
ক্লাব ফুটবলে আগের মতো প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে মাঝমাঠের প্রধান ভরসা ছিলেন রদ্রি। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল জেতায় ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়েও তার অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।
৪. কিলিয়ান এমবাপে (রিয়াল মাদ্রিদ/ফ্রান্স)
বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন কিলিয়ান এমবাপে। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। তবে রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপাহীন মৌসুম এবং ফ্রান্সের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নেওয়ায় ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন এই ফরাসি তারকা।
৫. লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি/আর্জেন্টিনা)
৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুললেও শিরোপা জেতাতে পারেননি। এছাড়া ইউরোপের বাইরে ক্লাব ফুটবল খেলায় ব্যালন ডি’অরের ভোটে তার অবস্থান কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্বকাপ-পরবর্তী পারফরম্যান্স, ক্লাব সাফল্য ও ব্যক্তিগত অর্জনের সমন্বয়ে এবার ব্যালন ডি’অরের লড়াই আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডিএজেডএনের প্রকাশিত এই র্যাংকিংয়ে আপাতত শীর্ষে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কার হাতে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার উঠবে, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।