সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে মারধর, পানি চাইলেও দেয়নি ছাত্রদল নেতা ও তার ভাই

‎রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:১১ এএম
স্থানীয় সাংবাদিক লালন সরকার
expand
স্থানীয় সাংবাদিক লালন সরকার

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক লালন সরকারকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, মারধরের একপর্যায়ে পানি চাইলেও তাকে পানি পান করতে দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান সুমন, তার বড় ভাই জাহেদুজ্জামান রাসেলসহ প্রায় ৫০ জনের একটি দল তার ওপর হামলা করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লালন সরকারের স্ত্রী শারমিন বাদী হয়ে শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দিতে গেলে পুলিশ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎ভুক্তভোগী লালন সরকার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে আসাদুজ্জামান সুমন মোবাইল ফোনে লালনকে দেখা করার জন্য ডাকেন। পরে পায়রা চত্বর সংলগ্ন এনএন স্কুল মাঠের গোলপোস্টের পাশে কয়েকজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন লালন। এ সময় সুমন, রাসেলসহ প্রায় ৫০ জন তাকে ঘিরে ফেলে বলে অভিযোগ।

‎লালনের দাবি, হামলার সময় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম লিটন, সাদেকুজ্জামান হীরা, দেবীগঞ্জ কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ মাহমুদ সৈকত, যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ফয়সাল চৌধুরী শোভনসহ আরও কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি 'জুলাই দেবীগঞ্জ' নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান সুমনের দুই ভাই আপিপ লিয়ন ও মুশফিকুর রহমান লিমনকে নিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে এক ভাইকে Debiganj নামের ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন এবং অন্য ভাইকে ২০২২ সালে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওই আইডিটি তিনি পরিচালনা করেন এমন অভিযোগ তুলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। যদিও লালন দাবি করেন, আইডিটি কে পরিচালনা করেন সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

‎লালন সরকারের অভিযোগ, হামলার সময় তাকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি লাথি ও ঘুষি মারা হয়। একপর্যায়ে তিনি পানি চাইলে পানি দেখিয়েও পান করতে দেওয়া হয়নি। সুমন ও রাসেল তার গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার গলা, দুই হাত, দুই উরু, পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। ডান কান থেকে রক্ত বের হয়, জিহ্বা কেটে যায়।

‎মারধর চলাকালীন তার সাথে থাকা দুইটি স্মার্ট ফোন, একটি ফিচার ফোন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের স্মার্ট কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

‎মারধরের একপর্যায়ে তাকে একটি ভ্যানে তুলে দেবীগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। এরপর প্রায় শতাধিক লোক থানায় গিয়ে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নেওয়ার জন্য ওসির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলে দাবি করেন তিনি।

‎লালনের স্ত্রী শারমিন বলেন, "আমার স্বামীকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, আর কিছুক্ষণ দেরী হলে তিনি মারা যেতে পারতেন। রাত আড়াইটা পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে নিতে পারিনি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর জানতে পারি, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল থেকেই তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। চাঁদাবাজির কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি। আমি আমার স্বামীর ওপর হামলার বিচার চাই।"

মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন ছাত্রদল নেতা আসাদুজ্জামান সুমন। তিনি বলেন, "লালন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চলেন। মূলত লালন আমাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ম্যানেজারের কাছে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে। এজন্য স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে থানায় দেয়। আমি সেখানে যাওয়ার পর কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।"

‎এদিকে মুঠোফোনে আবু হানিফের কাছে মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি টাকাপয়সার বিরোধের কথা জানান। পরে ২ মিনিট পর বিস্তারিত জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন। আবু হানিফ ছাত্রদল নেতা সুমনের ভাই রাসেলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাহিন ট্রেডার্সে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন।

‎দেবীগঞ্জ থানার ওসি মূসা মিয়া বলেন, লালনের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাদাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। তিনি মারধরের শিকার ছিলেন কি-না জানতে চাইলে ওসি বলেন, "এক জায়গায় একটু আঁচড়ের দাগ ছিল।"

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank