বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমিককে ভাইরাল হওয়া সেই শেষ মেসেজে কী লিখেছিলেন আফরিন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

‘সানি, আমি জানি আমাকে কখনো ক্ষমা করবা না, তারপরও বলি আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। কখনো ভাবিনি এমন একটা সময় আসবে, যে সময়ে তোমাকে হারিয়ে ফেলব।’

প্রেমিক সাখাওয়াত হোসেন সানিকে পাঠানো শেষ মেসেজে এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছিল কুমিল্লার দেবিদ্বারের কলেজছাত্রী আফরিন আক্তার (১৭)। সেই মেসেজের স্ক্রিনশট এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

অন্যদিকে মেসেজের পরদিন সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে দেবিদ্বার পৌরসভার মেল্লাবাড়ী মসজিদসংলগ্ন খান মঞ্জিলের চতুর্থ তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে আফরিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মেসেজের শেষদিকে আফরিন লিখেছিলেন, ‘আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর কাছে চাইব। আমি তোমাকে কখনো হারাতে চাই না। আমি অনেক ভালোবাসি তোমায়... হয়তো আজ আমার শেষ নিঃশ্বাসটাও কেউ দেখবে না। আমাদের আর কখনো কথা হবে না, দেখা হবে না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি পাখি, বাই। আল্লাহ হাফেজ।’

আফরিন পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। বাবার মৃত্যুর পর প্রায় ১০ বছর ধরে মায়ের সঙ্গে দেবিদ্বার সদরের মোল্লাবাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকত সে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সাখাওয়াতের সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সানি পেশায় ক্যামেরাম্যান। তবে মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি আফরিনের মা মরিয়ম বেগম। তার অভিযোগ, সানি বিভিন্নভাবে আফরিনকে উত্ত্যক্ত করতেন।

এ নিয়ে রোববার (০৯ আগস্ট) দুই পরিবারের সদস্য ও বাড়ির মালিককে নিয়ে সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকের পর মেয়েকে বাসায় একা রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান মরিয়ম।

পরদিন সোমবার সৌদি আরব থেকে ছেলে আজাদের ফোন পেয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। এসে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে স্থানীয় লোকজন ও কারিগরদের সহায়তায় দরজা ভাঙা হলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে আফরিনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।

মরিয়মের অভিযোগ, ‘সানি আমার মেয়েকে নানাভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। আমার মেয়ের এই অকাল মৃত্যুর জন্য সানিই সম্পূর্ণ দায়ী। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে আফরিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ওসি বলেন, পারিবারিক মনোমালিন্য ও প্রেমের সম্পর্কের জেরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন