বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষের খবর ধামাচাপা দিতে পরকীয়ায় জড়ান নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

ঘুষ না দেওয়ায় পরিচিত এক সেবাগ্রহীতাকে হয়রানি করা হচ্ছিল, এমন খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে যান স্থানীয় এক তরুণ। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ও নিজের অনিয়ম ধামাচাপা দিতে ওই তরুণের সঙ্গেই পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ৪০ বছর বয়সী ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শর্মিষ্ঠা সরকার।

নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এনপিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই।

ভুক্তভোগী ওই তরুণের দাবি, নিজের স্বার্থ হাসিল ও দুর্নীতির খবর যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ না পায়, সেজন্যই তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়। এর আগেও একাধিক ব্যক্তির সাথে ওই ভূমি কর্মকর্তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এনপিবি নিউজের অনুসন্ধানে ওই তরুণ ও ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের কথোপকথনের একাধিক কল রেকর্ড এবং ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশর্ট সংরক্ষিত রয়েছে, যা এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে সাতক্ষীরায় প্রতিনিয়ত সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছেন শর্মিষ্ঠা সরকার। কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক মাস্ক পরে থাকার কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘মাস্ক লেডি’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, সদর ও ফিংড়ী ভূমি অফিসে নিজস্ব দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো ফাইলে সই করেন না। টাকা দিতে না পারলে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ও বসন্তপুর ভূমি অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শক্তিশালী বলয় গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে। সরকারি তফসিলভুক্ত জমির নামজারি, খাজনা দাখিলা ও প্রতিবেদন তৈরির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সদর ভূমি অফিসে থাকাকালীন নামজারি বাবদ ৬-৭ হাজার টাকা এবং সাধারণ প্রতিবেদনের জন্য ২-৫ হাজার টাকা নেওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।

ঘুষের টাকায় কালিগঞ্জে কোটি টাকা মূল্যের জমি ক্রয়, একাধিক বিঘা কৃষিজমি অর্জন, ব্যাংকে বিপুল অংকের অর্থ জমা রাখা এবং ভারতের বশিরহাটে স্বজনের নামে সম্পত্তি ক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সীমিত বেতনের চাকরি করেও তার এই বিলাসিতা ও রাজকীয় জীবনযাপন নিয়ে স্থানীয়দের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আদালতের রায়ের ভিত্তিতে জমির নামজারি করতে এসে চরম হয়রানির শিকার হন ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের আখড়াখোলার বাসিন্দা গীতা রানী। অভিযোগ অনুয়ায়ী, নামজারির জন্য প্রথমে তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে কান্নাকাটি করার পর ১ লাখ টাকায় রফা করেন। ভুক্তভোগী গীতা রানী এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

অপর ভুক্তভোগী শহরের থানাঘাটা গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, তার একটি জমির ১৪৫ ধারা মামলার প্রতিবেদনের জন্য অর্থ দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধী পক্ষের থেকে অর্থ গ্রহণ করে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন ওই ভূমি কর্মকর্তা। এর প্রতিবাদে পূর্বে তিনি সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে ফিংড়ী ভূমি অফিসে গেলে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের সাথে দেখা মেলেনি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহার করা দুটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ জানান, সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরকীয়ার বিষয়টি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, যা দাপ্তরিক তদন্তের আওতাভুক্ত নয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন