

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সম্প্রতি এক অনলাইন লাইভ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তি শায়েখ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, মানুষ মারা গেলে সে কি তার গোসল করানো, কাফন-দাফন, জানাজা এবং আত্মীয়-স্বজনের কান্না কিংবা কথাবার্তা ইত্যাদি শুনতে বা অনুভব করতে পারে?
এই প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন,
মানুষ মারা যাওয়ার পর তাকে গোসল দেওয়ার সময় এবং কাফন-দাফন করানোর সময় তার আত্মীয়-স্বজনের মুভমেন্ট, তাদের কান্নাকাটি ও কথাবার্তা মৃত ব্যক্তি পুরোপুরি অনুভব করে বা শুনতে পায় এভাবে কোনো হাদিসে বলা হয়নি।
তবে সামগ্রিকভাবে মৃত ব্যক্তির এই জগতের আওয়াজ বা কথাবার্তা শুনতে পাওয়া প্রসঙ্গে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দুটি হাদিসের কথা আমরা জানতে পারি। তার একটি বর্ণনা করেছেন আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু), অপরটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)।
সহিহ বুখারিতে এসেছে, আনাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয় এবং দাফন শেষে তার আত্মীয়-স্বজন ফিরে চলে যায়, তখন মৃত ব্যক্তি তাদের চলে যাওয়ার সময় পায়ের জুতার আওয়াজ পর্যন্ত শুনতে পায়।
এই কথা থেকে বোঝা যায় যে, মানুষ কবরস্থ হওয়ার পর তার আত্মীয়-স্বজনের মুভমেন্ট কিংবা কবর জিয়ারত ইত্যাদি তারা অনুভব করতে পারে। সেটি ঠিক কীভাবে হয়, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
আল্লাহ তাআলা হয়তো একটা বিশেষ রুহ তাদের দিয়ে শুধু এটুকু অনুভব করার সুযোগ দেন, অথবা কবরে বরজখী জীবনের শাস্তি কিংবা নেয়ামত অনুভব করার সুযোগ হিসেবে আল্লাহ তাআলা তাদের এটি অনুভবের ক্ষমতা দিয়ে থাকেন।
অন্যদিকে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মৃত ব্যক্তির কবরে গিয়ে সালাম পেশ করে বা কবর জিয়ারত করে এবং মৃত ব্যক্তি যদি দুনিয়াতে লোকটির পরিচিত হয়ে থাকে, তবে মৃত ব্যক্তি অনুভব করতে পারে যে কে তাকে সালাম দিয়েছে।
তখন আল্লাহ তাআলা এক প্রকার রুহ তার মধ্যে ফেরত দেন, যার ফলে সে সেই সালামের জবাব দিতে পারে। জিয়ারতকারী ব্যক্তি যখন সালাম পেশ করে, তখন তার উত্তর বা রিপ্লাই দেওয়ার ক্ষমতা সে লাভ করে।
এসব বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, দাফন সম্পন্ন করার পর কবর জিয়ারত করা, কবরের পাশে গিয়ে সালাম পেশ করা এবং সালামের জবাব দেওয়া—এই বিষয়গুলো মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে এবং এইটুকু অনুভবের শক্তি আল্লাহ তাআলা তাকে দান করেন।
তবে তার আগের যে ধাপটি, অর্থাৎ দাফন করার পূর্ববর্তী সময়গুলোতে সে তার আত্মীয়-স্বজনের কথা ও আচরণ অনুভব করতে পারে কি না সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল

