

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ক্রিকেটার নাসির হোসেনের স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বামীর সঙ্গে খুনসুটির মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিতে দেখা যায়, নাসির হোসেনের কাঁধে বসে আছেন তামিমা, আর নিচে বসে মোবাইল ফোনে কিছু একটা করছেন নাসির। আলোচিত-সমালোচিত এ তারকা দম্পতির সেই পোস্ট ইতোমধ্যে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।
সোমবার (২৯ জুন) রাত ৭টা ৫৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাপশনসহ দুটি ছবি পোস্ট করেন তামিমা।
ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “কিছু কিছু বউ তার স্বামীর কাছে বোঝা নয়, বরং আদরের। বাচ্চাসুলভ আচরণ, নেকামি, আবদার, ছোট ছোট বিষয়ে অভিমান—এসবই বোঝায়, বাবার রাজকুমারীটি স্বামীর কাছেও রানীর মতো থাকে।”
এর আগে রোববার (২৮ জুন) রাতেও একটি পোস্ট দেন তামিমা। ওই পোস্টে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন তিনি।
ক্যাপশনে নাসির হোসেনের স্ত্রী লেখেন, “শত কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে আর্জেন্টিনা নিছক একটি দল নয়, এটি গভীর আবেগের নাম। হারলেও আর্জেন্টিনা, জিতলেও আর্জেন্টিনা।”
এর আগে বুধবার (২৪ জুন) আইনগতভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে তামিমার আগের স্বামী রাকিব হোসেনের দায়ের করা মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী ।
নাসির-তামিমার মামলা বৃত্তান্ত
মামলায় বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসির বিয়ে করেন।
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তিনি এই মামলা দায়ের করেন।
সে বছর ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান।
২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ওই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন তাদের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু।
অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটো আবেদনই আদালতে নাকচ হয়ে যায়। ফলে নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে মামলা চলতে আইনি বাধা কাটে। সে বছর ২০ মার্চ বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।
২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। সব মিলিয়ে ১০ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত। এরপর গত ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
গত ৩০ মার্চ নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের সাবেক বিমানবালা তামিমা। তিনি দাবি করেন, ‘সাংসারিক এবং মানসিক বনিবনা’ না হওয়ায় আগের স্বামী রাকিবকে তালাক দিয়ে বৈধভাবেই তিনি ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেন।
ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে পৃথক দুই ধারায় এবং তামিমার বিরুদ্ধে আলাদা তিন ধারায় অভিযোগ গঠন করে এ মামলার বিচার চলে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছরের এবং তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত। তবে আদালতের বিচারে তারা দুজনেই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।