

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববীর সবুজ গম্বুজ দেখলে অনেকেরই চোখ আটকে যায় গম্বুজের ওপর থাকা ছোট্ট একটি বিশেষ জানালায়। দূর থেকে দেখতে সাধারণ কোনো স্থাপত্যের অংশ মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, এই ছোট জানালাটি গম্বুজের ভেতরের আরেকটি খোলা অংশের সঙ্গে সমান্তরালভাবে অবস্থান করছে এবং এটি পবিত্র হুজরার ওপরের অংশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
কিছু ইসলামী ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়, মদিনায় তীব্র খরা দেখা দিলে হজরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে সাহাবিরা বিষয়টি জানালে তিনি নবীজি (সা.)-এর রওজার ওপরের ছাদে আকাশের দিকে একটি খোলা অংশ করার কথা বলেছিলেন। এরপর বৃষ্টি হওয়ার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই স্থাপত্যগত বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন নির্মাণ ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত হয়েছে বলে কিছু সূত্রে উল্লেখ করা হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আজকের সবুজ গম্বুজটি নবীজি (সা.)-এর যুগের নির্মাণ নয়। প্রথম গম্বুজটি নির্মিত হয় মিসরের মামলুক সুলতান কালাউন-এর শাসনামলে, ৬৭৮ হিজরি বা ১২৭৯ খ্রিস্টাব্দে। পরবর্তীতে গম্বুজটি একাধিকবার সংস্কার করা হয়। ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান মাহমুদ দ্বিতীয়ের সময় গম্বুজটি সবুজ রঙে রাঙানো হয়, এরপর থেকেই এটি ‘সবুজ গম্বুজ’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
অর্থাৎ, গম্বুজের ওপরের এই ছোট্ট জানালাটি নিছক সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য তৈরি কোনো আধুনিক নকশা নয়। এর সঙ্গে মসজিদে নববীর প্রাচীন স্থাপত্য, পবিত্র হুজরা এবং বৃষ্টির জন্য খোলা অংশের ঐতিহাসিক বর্ণনা জড়িয়ে আছে।
মদিনার আকাশে সবুজ গম্বুজ তাই শুধু একটি স্থাপত্য নয়, বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক ঐতিহাসিক নিদর্শন।


