

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হলে তার খোঁজখবর নেওয়া, সম্ভব হলে তাকে দেখতে যাওয়া এবং তার সুস্থতার জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আমল। রোগাক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাকে সাহস দেওয়া ও আল্লাহর কাছে তার আরোগ্য কামনা করা একজন মুসলমানের উত্তম কাজের মধ্যে পড়ে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে তার আরোগ্যের জন্য বিভিন্ন দোয়া পড়তেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো রোগীকে দেখতে গেলে অথবা তার কাছে কোনো রোগীকে নিয়ে আসা হলে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করতেন।
أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
আযহিবিল বা’সা রাব্বান-নাস, ইশফি ওয়া আনতাশ-শাফি, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামান।
কষ্ট দূর করে দিন, হে মানুষের রব। শেফা দান করুন, আপনিই একমাত্র শেফা দানকারী। আপনার শেফা ছাড়া কোনো শেফা নেই। এমন শেফা দান করুন, যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখবে না। - সহিহ বুখারি
রোগীকে দেখতে গেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও একটি সংক্ষিপ্ত দোয়া পড়তেন। দোয়াটি হলো-
لاَ بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
লা বা’সা, তাহুরুন ইন শাআল্লাহ।
কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই। ইনশাআল্লাহ, এই অসুস্থতার কারণে তোমার গুনাহ থেকে পবিত্রতা অর্জিত হবে। - সহিহ বুখারি
একজন মুসলমান অসুস্থ হলে তার খোঁজ নেওয়া ও তাকে দেখতে যাওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, একজন মুসলমানের ওপর অন্য মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে- সালামের জবাব দেওয়া, অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া, জানাজার সঙ্গে যাওয়া, দাওয়াত কবুল করা এবং হাঁচির জবাব দেওয়া। - সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, কেউ বিকেলে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার সঙ্গে রওনা হন এবং ভোর হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। তার জন্য জান্নাতে একটি বাগান তৈরি করা হয়। আর কেউ সকালে কোনো রোগীকে দেখতে গেলে তার সঙ্গেও সত্তর হাজার ফেরেশতা রওনা হন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। তার জন্যও জান্নাতে একটি বাগান তৈরি করা হয়। - সুনান আবু দাউদ
অসুস্থতার সময় একজন মানুষ শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন। এ সময় আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের খোঁজখবর নেওয়া তাকে মানসিক শক্তি দিতে পারে। তাই রোগীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে অপ্রয়োজনীয় কথা না বলে তার সুবিধা-অসুবিধার কথা জানতে চাওয়া এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করা উত্তম।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় অথবা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো দ্বীনি ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তাকে একজন ফেরেশতা ডেকে বলেন, তোমার জীবন মঙ্গলময় হোক এবং তুমি জান্নাতে নিজের আবাস নির্ধারণ করে নিয়েছ। -সুনান তিরমিজি
কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হলে তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও জরুরি। ইসলামে চিকিৎসা গ্রহণকে দোয়ার বিকল্প হিসেবে দেখা হয় না। বরং সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
রোগীকে দেখতে গেলে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অল্প সময় থাকা ভালো। তাকে কষ্ট দিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা উচিত নয়। তার জন্য আশাবাদী কথা বলা, প্রয়োজন হলে চিকিৎসা বা দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে।
অসুস্থ ব্যক্তির সামনে ভয় বা হতাশা তৈরি করে এমন কথা না বলে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করা উচিত। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত বিষয় ও অসুস্থতার তথ্য অন্যের কাছে প্রকাশ না করাও শিষ্টাচারের অংশ।
তাই আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা পরিচিত কেউ অসুস্থ হলে তার খোঁজখবর নেওয়া উচিত। সম্ভব হলে তাকে দেখতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) শেখানো দোয়া পড়া এবং তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত।
মহান আল্লাহ সব অসুস্থ ব্যক্তিকে পূর্ণ সুস্থতা দান করুন, তাদের কষ্ট দূর করে দিন এবং রোগীদের সেবা ও খোঁজখবর নেওয়ার তাওফিক সবাইকে দান করুন। আমিন।


