

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানুষের জীবনে বিপদ, দুশ্চিন্তা ও নানা ধরনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। ইসলাম এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য ও কল্যাণ প্রার্থনার শিক্ষা দিয়েছে। নফল নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে বান্দা নিজের প্রয়োজন মহান আল্লাহর কাছে তুলে ধরতে পারেন। এ প্রসঙ্গে প্রচলিত একটি আমল হলো সালাতুল হাজত বা প্রয়োজনের নামাজ।
‘সালাতুল হাজত’ অর্থ প্রয়োজনের নামাজ। সাধারণভাবে কোনো প্রয়োজন, বিপদ বা দুশ্চিন্তার সময় আল্লাহর সাহায্য কামনা করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করাকে সালাতুল হাজত বলা হয়। এই নামাজের মাধ্যমে বান্দা নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও কল্যাণ প্রার্থনা করেন। তবে সালাতুল হাজত নিয়ে বর্ণিত হাদিসগুলোর গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এটিকে ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত মনে করা যাবে না।
নফল নামাজের নিষিদ্ধ সময়গুলো ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী সালাতুল হাজত আদায় করা যায়। অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে দোয়া করা যেতে পারে। তবে নফল নামাজের জন্য যেসব সময় নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয়, সেসব সময়ে তা আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হবে
নামাজের নিয়তের জন্য নির্দিষ্ট কোনো আরবি বাক্য পড়া জরুরি নয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সাহায্য লাভের উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের সংকল্প অন্তরে থাকাই যথেষ্ট।
‘আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও সাহায্য লাভের উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি।’ এরপর তাকবিরে তাহরিমা- ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করতে হবে।
সালাতুল হাজত সাধারণ নফল নামাজের মতোই আদায় করা যায়। দুই রাকাত নামাজ শেষে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া পড়ে সালাম ফেরাতে হবে। এরপর আল্লাহর প্রশংসা করে মহানবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে নিজের প্রয়োজনের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যায়। সালাতুল হাজতের সঙ্গে একটি বিশেষ দোয়া পড়ার কথা কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে প্রয়োজনের সময় দুই রাকাত নামাজ আদায় করে দোয়া করার কথা এসেছে।
-মুসনাদ তিরমিজি, হাদিস ৪৭৯; সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস ১৩৮৪
আরবি- لاَ إِلَهاَ إلِاَّ اللَاَُّ الْحَلِيماُ الْكَرِيمُ، سُبْحَاناَ اللََّاِ رَ باِ الْعَرْشِا الْعظَِيمِ، الْحَمْاُد لِلَاَِّ رَ باِ الْعَالمَِينَ، اللهَُّماَّ إنِِ ي أسَْألَكُاَ مُوجِبَاتاِ رَحْمَتكَِ، وَعَزَااِئم مَغْفِرَتكَِ،ا وَالْغَنيِمَةاَ مِناْ كُ لاِ بِ ر، وَالسَّلََمَاَة مِناْ كُ لاِ إثِْ م، أسَْألَكُاَ ألَاَّ تدََعاَ لِي ذنَْباً إلِاَّ غَفَرْتهَُ، وَلاَ هَمًّا إلِاَّ فَرَّجْتهَُ، وَلاَ حَاجَةاً هِياَ لَكَ رِضًا إلِاَّ قَضَيْتهََا لِي، يَا أرَْحَماَ الرَّاحِمِيناَ বাংলা উচ্চারণ- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারিম। সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আরশিল আজিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মুজিবাতি রহমাতিক, ওয়া আজাইমা মাগফিরাতিক, ওয়াল গনিমাতা মিন কুল্লি বিরর, ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইসম। আসআলুকা আল্লা তাদা‘আ লি যাম্বান ইল্লা গাফারতাহু, ওয়া লা হাম্মান ইল্লা ফাররাজতাহু, ওয়া লা হাজাতান হিয়া লাকা রিদান ইল্লা কাদাইতাহা লি, ইয়া আরহামার রাহিমিন। বাংলা অর্থ- ‘পরম সহনশীল ও দয়ালু আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র। সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার রহমত লাভের উপায়, আপনার ক্ষমা লাভের কারণ, সব ধরনের কল্যাণ অর্জন এবং সব ধরনের পাপ থেকে নিরাপত্তা চাই। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি- আমার কোনো গুনাহ যেন আপনি ক্ষমা না করে রাখেন না, কোনো দুশ্চিন্তা যেন আপনি দূর না করে রাখেন না এবং আপনার সন্তুষ্টির মধ্যে থাকা কোনো প্রয়োজন যেন আপনি পূরণ না করে রাখেন না। হে দয়ালুদের মধ্যে সর্বাধিক দয়ালু।’
হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়ার পাশাপাশি নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। জীবনের যেকোনো প্রয়োজন, বিপদ, দুশ্চিন্তা, অসুস্থতা বা সমস্যার কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যায়।
তবে দোয়ার সময় শুধু নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি, ক্ষমা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণও কামনা করা উচিত।
সালাতুল হাজতের মাধ্যমে একজন মুসলমান উপলব্ধি করেন যে, মানুষের প্রকৃত সাহায্যকারী মহান আল্লাহ। বিপদে হতাশ না হয়ে তার কাছে ফিরে যাওয়া, নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া এবং নিজের প্রয়োজন তার কাছে তুলে ধরা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তবে কোনো নফল আমলকে ফরজ বা ওয়াজিব মনে করা উচিত নয়। সালাতুল হাজত সম্পর্কিত বর্ণিত হাদিসের মান নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এটিকে নফল আমল হিসেবে আদায় করা এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করাই উত্তম।


