

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরিয়াহভিত্তিক নৈতিক ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BICCI)-এর প্রথম সদস্য সম্মেলন।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর পল্টন মোড়ের ভূঁইয়া টাওয়ারের ডিআইসিসি হলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন সদস্যদের পরিচিতি, চেম্বারের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আসন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনটির অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী শরিয়াহর মূলনীতির আলোকে দেশের ব্যবসায়ী সমাজকে সুসংগঠিত করা এবং একটি নৈতিক, স্বচ্ছ ও সহযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করাই BICCI-এর অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের মধ্যে ব্যবসায়িক সেতুবন্ধন তৈরিতেও কাজ করবে সংগঠনটি।
বক্তারা বলেন, ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের বিকাশের পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকিং আইন ও নীতিমালা প্রয়োজন। এ খাতের উপযোগী নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী করা গেলে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
সম্মেলনে বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, খাদ্য, প্রসাধনী, ওষুধ ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে সমন্বিত হালাল শিল্প গড়ে তুলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারে নতুন অর্থনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল সনদায়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে BICCI-এর অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। দক্ষ, সৎ, প্রতিনিধিত্বশীল ও পেশাদার কাঠামোর মাধ্যমে চেম্বারের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন BICCI-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এ. ফাত্তাহ আসিফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সুলতান মাহমুদুর রহমান ও সুলতান মাহমুদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ‘ইনসাফ’-এর সম্পাদক সৈয়দ মাহফুজ খন্দকার।
মূল প্রবন্ধ ও কি-নোট বক্তব্য উপস্থাপন করেন BICCI-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব এম. মুফাজ্জল ইবনে মাহফুজ। অ্যাডহক কমিটি গঠনসংক্রান্ত অধিবেশনে বক্তব্য দেন মাহমুদুল ইসলাম তুষার। অনুষ্ঠানে ইসলামিক স্মার্ট সিটির চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকও বক্তব্য দেন।
BICCI-এর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় রয়েছে শরিয়াহভিত্তিক ব্যবসায়িক নীতি ও নৈতিক ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলা, হালাল শিল্পের বিকাশ, হালাল সনদায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সদস্যদের মধ্যে ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানো।
এ ছাড়া মুসলিম দেশগুলোর ব্যবসায়ী সংগঠন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি এবং হালাল অর্থনীতি ও শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের কাছে গঠনমূলক প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কি-নোট বক্তব্যে বলা হয়, ‘BICCI কেবল একটি সংগঠন নয়—এটি ব্যবসায়িক বিপ্লবের সূচনা।’ শরিয়াহভিত্তিক নীতি, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী, সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথাও তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সদস্যরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ‘হালাল সার্টিফিকেশন কী ও কেন প্রয়োজন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
শেষে BICCI-এর আরেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুর রহমান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এর মধ্য দিয়ে সংগঠনটির প্রথম সদস্য সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


