

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষকে বিশ্বের নানা স্থানে যেতে হয়, বসবাস করতে হয়। কখনো-বা আপন মাতৃভূমি ছেড়ে মত ও আদর্শের বিপরীত ভূমিকেও বেছে নিতে হয় স্থায়ী আবাস রূপে। প্রশ্ন ওঠে- যদি কোনো মুসলমান এমন দেশকে আবাসস্থল রূপে বেছে নিতে চায় বা তার জন্মস্থানই হয় এমন দেশ—যেখানে ইসলামি আদর্শ ও স্থানীয় সমাজনীতির যোজন যোজন দূরত্ব! তাহলে একজন মুসলিম হিসেবে তার করণীয় কী? সে কি পারবে এমন দেশে বসবাস করতে?
সম্প্রতি বিশ্বনন্দিত ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।
এনপিবি নিউজের পাঠকদের জন্য এখানে তার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, কোনো মুসলিম অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাইলে তাকে অবশ্যই দাওয়াতের (ইসলামের দিকে আহ্বান) নিয়তে থাকতে হবে। তবে অস্থায়ী বসবাস যেমন, চিকিৎসা, পড়াশোনা, ভ্রমণ ইত্যাদির বেলায় ভিন্ন কথা। তখন দাওয়াতের নিয়ত থাকা আবশ্যক নয়।
তিনি বলেন, অমুসলিম দেশে বসবাসের ব্যাপারে রাসুল সা. কঠিনভাষায় সতর্ক করে বলেছেন—‘তার ব্যাপারে আমার কোনো দায়-ভার নেই, যে মুশরিকদের সাথে অমুসলিম দেশে বসবাস করে।’ রাসুলের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি এটা। তবে এ হুঁশিয়রি থেকে তখনই একজন মুসলিম মুক্তি পাবে, যখন—তার নিয়ত থাকবে, অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া।
মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, যথাযথ উপস্থাপনার যোগ্যতার অভাবে আমরা অমুসলিম দেশগুলোতে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হই। বিপরীতে অমুসলিমরা তাদের ‘বস্তাপঁচা’ মতবাদ, চিন্তা-চেতনা বা আইডিয়লজি বিশ্বের সামনে চোখ ধাঁধানো আঙ্গিকে উপস্থাপন করে। ফলে মানুষ সেটাকেই শ্রেষ্ঠ ভাবতে মনে করছে। তাই আমাদের দাওয়ার পদ্ধতি ভালো ভাবে জানতে হবে।
অমুসলিম দেশে বসবাসরত মুসলিমদের ধর্মীয় দায়িত্বের আলোচনায় বিশ্বনন্দিত এই তরুণ স্কলার বলেন, আমরা যারা অমুসলিম দেশে বসবাস করি, প্রত্যেকের জানা থাকা দরকার আমরা প্রত্যেকেই ইসলামের প্রতিনিধি। আমাদের দেখে অমুসলিমরা ইসলামকে বিচার করবে। আমরা মিথ্যা বললে, লেনদেনে কারচুপি করলে—তারা আমাদের গালি দেবে না; বরং বলবে মুসলমানরা এমনই। এ জন্য আমাদের উচিত সতর্ক থাকা এবং একজন মুসলিম হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। আর আমরা এই ভূমিকা তখনই পালন করতে পারব, যখন নিজে ইসলামকে জানতে ও বুঝতে পারব, ইসলামের চেতনা ও আদর্শ নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারব। তাই আসুন ইসলামের ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি। না জানলে আমল করব কীভাবে?
ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব আলোচনা করতে গিয়ে ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, আসলে আমাদের সম্মান হলো ইসলামে। হজরত ওমর ফারুক রা. বলতেন, আমরা এমন জাতি যাদেরকে আল্লাহ তাআলা ইসলাম দিয়ে সম্মানিত করেছেন। যদি আমরা ইসলাম ছাড়া অন্য কোথাও সম্মান তালাশ করি, তাহলে তিনি আমাদের অপদস্ত করবেন। মনে রাখবেন ভাইয়েরা, আল্লাহর কাছে মনোনিত ধর্ম হলো একমাত্র ইসলাম। আল্লাহ বলেছেন, ইসলাম ছাড়া কেউ যদি অন্য ধর্ম তালাশ করে তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সুরা আল-ইমরান: ৮৫)
এছাড়াও ভিডিওবার্তায় তিনি শরিয়ত মেনে চলায় আল্লাহর তাওফিক কামনা করেন। এবং ইসলাম ধর্মালম্বী সর্বসাধারণকে শরিয়ত মেনে চলার ও সন্তানদের শরিয়ত শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান।