বুধবার
২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজী নজরুলের বিয়ে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নিজ দলের এমপির

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৪ এএম
গাজী নজরুল ও এমপি এনামুল। ছবি: সংগৃহীত
expand
গাজী নজরুল ও এমপি এনামুল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ‘ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেন একই দলের যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। গণমাধ্যমের কাছে আসা একটি অডিও বক্তব্যে বিষয়টিকে ‘অসম বিবাহ, গোপনীয় ও অনৈতিক’ উল্লেখ করে তাকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা গেছে। ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে তার এই অডিও প্রকাশ করা হয়।

অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, বৈধ কাজ হয় প্রকাশ্যে, আর অনৈতিক কাজ হয় গোপনে। ওনার এই বিয়েটাকে আপনারা সুন্নত বলে চালিয়ে দিচ্ছেন! একটি বিবাহে একজন নারী ও একজন পুরুষের চুক্তিতে যা যা থাকে, পতিতালয়েও একই কাজ হয়, সেখানেও অর্থের লেনদেন ঘটে। তবে পতিতালয়ের কাজ হারাম, আর বিবাহ হলো সুন্নত—যা প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি হিন্দুরাও ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ে করে।

তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনাকে কোনো সুন্নত বা ভালো কাজ গোপনে করার এখতিয়ার কে দিয়েছে? কোন হাদিস বা সুন্নাহ আপনাকে এই শিক্ষা দিয়েছে? নিজের পদ-মর্যাদার অজুহাতে অনৈতিক কাজকে সুন্নত বলে চালিয়ে দিতে চান! ৫৮ বছরের বয়সের ব্যবধানে গোপনে একটা মেয়েকে বিয়ে করবেন, আবার সেটাকে সুন্নত বলবেন—এটা কেমন কথা? ইসলামে তো বৈধ কাজ প্রকাশ্যে করার বিধান। যা গোপনে করেছেন, সেটাকে আবার কেউ কেউ কীভাবে যুক্তি দিয়ে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছে! আল্লাহ আমাকে মাফ করুন।

এর আগে, সোমবার বিকেল থেকেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করে। প্রথম দিকে ফেসবুকে তার সমর্থকরা এটি ‘এআই ব্যবহার করে করা হয়েছে’ উল্লেখ করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল নাগাদ কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে ভিডিও এআই দিয়ে বানানো নয়।

এসব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই দুপুর ১২টা ১ মিনিটে ফেসবুকে নিজের আইডিতে একটি বিবৃতি দিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম। পোস্টে তিনি দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসভবনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।

বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে জোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লক্ষ টাকা আদায় করে।

‘আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়া করা গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এ সময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন