

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামের দৃষ্টিতে মাদক বা মদ পান করা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে একে শয়তানের কাজ হিসেবে উল্লেখ করে বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ বলেন- ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজা ও লটারির তীর তো কেবল ঘৃণার বস্তু, শয়তানের কাজ। কাজেই তোমরা সেগুলো বর্জন করো- যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সূরা মায়েদা: ৯০)
শুধু কোরআনেই নয়, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বহু হাদিসে মাদক নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন- ‘প্রত্যেক নেশাদ্রব্যই মদ, আর যাবতীয় মদই হারাম।’(সহিহ মুসলিম)
অন্য এক হাদিসে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মদ পানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (ইবনে মাজাহ)
মদ যেহেতু পুরোপুরি হারাম, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে- যেসব বোতল বা পাত্রে মদ রাখা হতো, সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে বা পরিষ্কার করে তাতে পানি বা অন্য কোনো হালাল পানীয় পান করা যাবে কি না?
বিশেষ করে আজকাল বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় মদের বোতলের মতো দেখতে বা পুরোনো মদের বোতলে পানি পরিবেশন করতে দেখা যায়।
এমতাবস্থায় ইসলামের বিধান ও আমাদের করণীয় কী?
ইসলামের প্রথম যুগে মদ হারাম হওয়ার পরপরই মদের পাত্র বা বোতলে পানি বা অন্য কোনো হালাল পানীয় পান করা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এর পেছনে মূলত তিনটি কারণ ছিল:
১. সে সময় পাত্রগুলোতে মদের চিহ্ন বা গন্ধ লেগে থাকত।
২. মুসলমানদের তখন সবেমাত্র মদপানের দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও আসক্তি দূর হচ্ছিল। মদের পাত্র দেখলে যেন পুনরায় মদপানের কথা মনে না পড়ে বা নেশার প্রতি আকর্ষণ তৈরি না হয়, সেজন্য সতর্কতাবশত এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
৩. মানুষের মনে মদের প্রতি যেন চরম ঘৃণা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে যখন মদ হারাম হওয়ার বিধানটি সবার মনে শক্তভাবে গেঁথে যায়, সাহাবিদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও আসক্তি পুরোপুরি দূর হয়ে যায় এবং মদের প্রতি তীব্র ঘৃণা তৈরি হয়, তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।
হযরত ইবনে বুরাইদা (রা.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
‘আমি তোমাদের কিছু পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলাম। মূলত পাত্র কোনো কিছুকে হালালও করে না, আবার কোনো কিছুকে হারামও করে না। তবে প্রতিটি মাদকদ্রব্য হারাম।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৩২৬)
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ইসলামি আইনবিদদের মত ও করণীয়:
ইসলামি ফেকাহশাস্ত্রবিদ ও আলেমদের মতে, মদের বোতলে পানি পানের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় লক্ষ্যণীয়:
১. বৈধতার দিক (জায়েজ): যদি কোনো মদের বোতল অত্যন্ত ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়- যার ফলে সেটির ভেতরে মদের কোনো রকম অংশ, চিহ্ন বা গন্ধ অবশিষ্ট না থাকে, তবে সেই বোতলে পানি রাখা এবং তা পান করা ধর্মীয় দিক থেকে বৈধ বা জায়েজ।
২. উত্তম ও সতর্কতার দিক (তাকওয়া): বোতলটি পরিষ্কার করলে পানি পান করা জায়েজ হলেও, ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমরা এমন বোতল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন এবং এগুলো এড়িয়ে চলতে উৎসাহিত করেন। এর কারণ হলো-
বোতলটি প্রথমে একটি হারাম কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল।
এমন বোতল অনেক সময় মানুষের মনে কুচিন্তা বা কুমন্ত্রণা তৈরি করতে পারে।
এটি মানুষের মনে পরোক্ষভাবে হারাম কাজের প্রতি কৌতুহল বা আগ্রহ তৈরি করতে পারে।
তাই বলা যায়, ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করার পর মদের বোতলে পানি পান করা গুনাহ বা হারামের অন্তর্ভুক্ত নয়।
তবে আত্মশুদ্ধি, সতর্কতা এবং মনের পবিত্রতা বজায় রাখার স্বার্থে মদের বোতল বা ওই জাতীয় পাত্রে পানি পান না করাই সবচেয়ে উত্তম। আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী, আমাদের উচিত যথাসম্ভব এই ধরনের বোতল এড়িয়ে চলা।

