

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের মোবাইল সিম অপারেটরগুলো গ্রাহকদের জরুরি প্রয়োজনে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার সুবিধা দিয়ে থাকে। পরে রিচার্জের মাধ্যমে সেই টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে গ্রাহক ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিয়ে তা পরিশোধের আগেই যদি মারা যান, তাহলে সেই দায় কীভাবে নিষ্পত্তি হবে?
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ঋণ পরিশোধকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ঋণ পরিশোধে অবহেলা করা বৈধ নয়। মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সম্পদ বণ্টনের আগে তার যাবতীয় ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক। এরপরই উত্তরাধিকারীরা সম্পদ প্রাপ্য হন। এ বিষয়ে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘অসিয়ত পূরণ ও ঋণ পরিশোধের পরই (সম্পদ বণ্টন করা হবে)’ (সূরা নিসা: ১১)।
শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল অপারেটর থেকে নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সও মূলত একটি ঋণ। তাই এটি পরিশোধ করা গ্রাহকের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
ফিকহ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স গ্রহণ করার পর তা পরিশোধ না করেই মৃত্যুবরণ করলে, তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে প্রথমে ওই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এটি উত্তরাধিকারীদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
এ বিষয়ে এক ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঋণ গ্রহণ করলে তা যথাসময়ে পরিশোধ করা আবশ্যক। ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সও যেহেতু ঋণের অন্তর্ভুক্ত, তাই মৃত্যুর পরও তা পরিশোধযোগ্য।
তবে কেউ যদি পরিশোধের নিয়ত রেখে সময়মতো পরিশোধ করতে না পারেন এবং আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে আল্লাহর রহমতে ক্ষমা পাওয়ার আশা করা যায় বলেও মত দিয়েছেন আলেমরা। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধে গাফিলতি করা গুরুতর গুনাহের কাজ, যা পরকালে জবাবদিহির বিষয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের দায়িত্ব হলো যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট সিম অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা।
