

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হজ পালনে নারীর সঙ্গে মাহরাম থাকা বাধ্যতামূলক কি না—এ প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে হাদিস ও ফিকহভিত্তিক ব্যাখ্যায় ভিন্নমত থাকলেও অধিকাংশ আলেম মাহরামের উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মাহরাম ছাড়া নারীর সফর ও হজ বিষয়ে কয়েকটি সহিহ হাদিসের সূত্র নিচে দেওয়া হলো—
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন: لا تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ অর্থ: “কোনো নারী মাহরাম ছাড়া সফর করবে না।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৬২) (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪১)
স্ত্রী হজে গেলে স্বামীকে সঙ্গে যাওয়ার নির্দেশ
এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে বললেন, তিনি যুদ্ধে যেতে চান, কিন্তু তার স্ত্রী হজে গেছেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন, انْطَلِقْ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ অর্থ: “যাও, তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ করো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০০৬) (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪১)
এক হাদিসে রাসুল (সা.) এমন সময়ের কথা বলেছেন, যখন একজন নারী নিরাপদে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করতে পারবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫৯৫)
এই হাদিসগুলোর ভিত্তিতে আলেমরা ফিকহি ব্যাখ্যা দিয়েছেন—কেউ মাহরামকে শর্ত বলেছেন, আবার কেউ নিরাপদ কাফেলাকে যথেষ্ট মনে করেছেন।
হাদিসে এসেছে, মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “কোনো নারী যেন মাহরাম ছাড়া সফর না করে।” এক ব্যক্তি বললেন, আমার স্ত্রী হজে গেছেন, আর আমি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছি। তখন রাসুল (সা.) তাকে বলেন, “তুমি ফিরে গিয়ে তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ করো।” এই হাদিসটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে।
তবে শাফেয়ি ও মালেকি মাজহাবের কিছু আলেমের মত হলো, যদি নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বস্ত নারীদল বা নিরাপদ কাফেলার সঙ্গে যাওয়া যায়, তাহলে ফরজ হজ আদায় করা বৈধ হতে পারে। এই মতও ইসলামি ফিকহে আলোচিত।
মন্তব্য করুন
