

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানুষকে হঠাৎ করে ‘কাফির’ বলে আখ্যায়িত করার প্রবণতা নিয়ে ইসলাম কঠোর সতর্কতা দিয়েছে। ইসলামি শরিয়তে কাউকে কাফির ঘোষণা (তাকফির) অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যা নির্ভর করে সুস্পষ্ট দলিল, জ্ঞান ও যোগ্য আলেমদের সিদ্ধান্তের ওপর।
মুহাম্মদ (সা.) এ বিষয়ে কঠিন সতর্কবাণী দিয়েছেন। সহিহ বুখারি-এর একটি হাদিসে তিনি বলেন, “যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে ‘হে কাফির’ বলে, তখন এ কথা তাদের একজনের ওপর ফিরে আসে। যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি তেমন না হয়, তবে সেই অভিযোগকারীর দিকেই তা ফিরে যায়।”
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—কাউকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাফির বলা বড় গুনাহ এবং এটি মুসলিম সমাজে বিভেদ ও ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে।
সাবিত ইবনে যাহহাক (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মের মিথ্যা শপথ করে, সে যা বলে তা-ই হবে। আর যে বস্তু দিয়ে কেউ আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনে তাকে সেই বস্তু দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে। ঈমানদারকে লা’নাত করা (অভিশাপ দেয়া), তাকে হত্যা করার সমতুল্য। আর কেউ কোনো ঈমানদারকে কুফরীর অপবাদ দিলে, তাও তাকে হত্যা করার সমতুল্য হবে। (বুখারি, হাদিস ৬১০৫)
পবিত্র কোরআনেও এ বিষয়ে সতর্কতা এসেছে। যাচাই ছাড়া কারও ঈমান অস্বীকার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইমাম নববী (রহ.) বলেন, একজন মুমিনকে লা‘নাত করা মানে তাকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার দোয়া করা। যা ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের পরিপন্থী এবং বড় গুনাহ। (ইমাম নববী, রিয়াদুস সালিহীন ও এর শারহসমূহ)
ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন, এখানে শাস্তির ধরনকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ যে যেভাবে নিজের জীবন নষ্ট করেছে, আখিরাতে সেই উপায়েই তার জন্য শাস্তি নির্ধারিত হবে। তবে আহলে সুন্নাহর আকীদা অনুযায়ী, আত্মহত্যাকারী মুসলিম যদি ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়; বরং আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন, নচেৎ শাস্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (ইবনে হাজার, ফাতহুল বারী, হাদিস ৬১০৫-এর ব্যাখ্যা)
মন্তব্য করুন
