

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইহরাম বাঁধার মধ্য দিয়ে হজ ও ওমরাহর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ইহরাম শব্দের আভিধানিক অর্থ নিষিদ্ধ করা। হজ ও ওমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যখন হজ বা ওমরাহ কিংবা উভয়টি পালনের উদ্দেশ্যে নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার ওপর কিছু হালাল কাজ হারাম হয়ে যায়। এ কারণেই এ প্রক্রিয়াটিকে ‘ইহরাম’ বলা হয়।
ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ করা যায় না
১. মাথার চুল ছোট করা বা পুরোপুরি মুণ্ডানো। তবে অসুস্থতা কিংবা ওজরের কারণে ইহরাম অবস্থায় মাথার চুল ফেলতে বাধ্য হলে কোনো পাপ হবে না, কিন্তু তার ওপর ফিদয়া ওয়াজিব হবে। ২. হাত বা পায়ের নখ উপড়ে ফেলা, কর্তন কিংবা ছোট করা। আলেমরা এ ব্যাপারে একমত যে নখ কাটা ইহরাম পরিধানকারীর জন্য হারাম। হাত কিংবা পায়ের নখ-উভয়ের ক্ষেত্রে একই হুকুম। তবে যদি নখ ফেটে যায় এবং তাতে যন্ত্রণা হয় তবে যন্ত্রণাদায়ক স্থানটিকে ছেঁটে দেওয়ায় কোনো ক্ষতি নেই। এ কারণে কোনো ফিদয়া ওয়াজিব হবে না। (মানাসিকুল হজ ওয়াল ওমরাহ, পৃষ্ঠা ৪৪) ৩. ইহরাম বাঁধার পর শরীর, কাপড় কিংবা এ দুটির সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্য কিছুতে সুগন্ধি জাতীয় কিছু ব্যবহার করা। তবে ইহরামের আগে ব্যবহূত সুগন্ধির কিছু যদি অবশিষ্ট থাকে তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। ৪. বিবাহ সংক্রান্ত আলোচনা করা। ৫. ইহরাম অবস্থায় সহবাস করা। আলিমদের ঐকমত্যে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর মধ্যে কেবল সহবাসই হজকে সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দেয়। ৬. ইহরাম অবস্থায় কামোত্তেজনাসহ স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা। যেমন চুম্বন, স্পর্শ ইত্যাদি। ৭. ইহরাম অবস্থায় শিকার করা। হজ বা ওমরাহ যেকোনো অবস্থাতেই মুহরিমের জন্য স্থলভাগের প্রাণী শিকার নিষিদ্ধ-এ ব্যাপারে আলেমরা একমত।
সুতরাং শিকারকৃত জন্তু ইহরাম অবস্থায় হত্যা করা বৈধ নয়। তবে আলেমরা প্রাণী শিকার বলতে এমন সব প্রাণী বলে একমত পোষণ করেছেন, যার মাংস মানুষের খাদ্য এবং যা বন্য প্রাণীভুক্ত। তাই ‘শিকার’ বলতে এমন সব প্রাণী বুঝায়, যা স্থলভাগে বাস করে, হালাল ও প্রকৃতিগতভাবেই বন্য। যেমন হরিণ, খরগোশ ও কবুতর ইত্যাদি।
এসব প্রাণীর শিকার যেমন নিষিদ্ধ তেমনি সেগুলোকে হত্যা করা এবং হত্যার সহায়তা করাও নিষিদ্ধ। যেমন দেখিয়ে দেয়া, ইশারা করা বা অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করা। তবে পোষা প্রাণী জবেহ করা বৈধ। কারণ, এটি শিকারের আওতায় পড়ে না। যেমন—হাঁস, মুরগি ও ছাগল ইত্যাদি।
আর ক্ষতিকর পোকা-মাকড় কিংবা হিংস্র প্রাণী শিকার-জন্তু হিসেবে গণ্য হবে না। সুতরাং হারাম শরিফের এলাকা কিংবা অন্য যেকোনো স্থানে তা হত্যা করা বৈধ। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘হারাম কিংবা হালাল উভয় এলাকায় রাসুলুল্লাহ (সা.) পাঁচ ধরনের প্রাণী হত্যা করা বৈধ বলে উল্লেখ করেছেন : কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর ও হিংস্র কুকুর। অন্য বর্ণনায় আছে ‘সাদা কাক’। (ফাতহুল বারী : ৬/ ৫১১; শরহে মুসলিম : ৪/৩৭২)
ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ করা যায়
চশমা, ঘড়ি, টাকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করার জন্য সেলাইযুক্ত ছোট ব্যাগ ব্যবহার করা যাবে। পরিষ্কার-পরিচছন্নতার জন্য পরিধানের ইহরাম কাপড় পরিবর্তন করা যাবে। ইহরামের কাপড় ধৌত করা যাবে। গোসল করা যাবে। অনিচ্ছাকৃত ও অপ্রত্যাশিতভাবে শরীরের কোনো চুল/লোম উঠে যাওয়া। গৃহপালিত পশু জবাই করা যাবে, মাছ ধরা যাবে। মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো প্রাণী কর্তৃক আক্রান্ত হলে তা তাড়িয়ে দেওয়া বা আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনে হত্যা করা : যেমন—বন্য কুকুর, ইঁদুর, কাক, সাপ, বিচ্ছু, চিল, মশা, মৌমাছি ও পিঁপড়া ইত্যাদি। আত্মরক্ষার জন্য চোর/ডাকাতকে আঘাত করা। এবং ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার জন্য শরীর আবৃত করার জন্য কম্বল, মাফলার ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে।
(সূত্র : হজ সফরে সহজ গাইড, মুহাম্মাদ মোশফিকুর রহমান)
মন্তব্য করুন
