

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশে হামের বর্তমান বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বৈশ্বিক এই সংস্থাটি বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। টিকার ঘাটতি ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং পূর্বের অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই হামের সংক্রমণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ১৯,১৬১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ২,৯৭৩ জনের হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে ১২,৩১৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, দেশের প্রায় ৯১ শতাংশ জেলাই এখন এই রোগের প্রভাবে আক্রান্ত। এছাড়া দেশের ৮ বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ১৫ মার্চের পর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকা বিভাগেই ৮,২৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকাগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে।
হামের এই প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই এ বয়সসীমার মধ্যে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে এবং ৩৩ শতাংশ শিশু নয় মাসের কম বয়সী।
সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে তাদের অধিকাংশই পূর্ণ টিকাপ্রাপ্ত ছিল না। অনেকে এক ডোজ বা কোনো টিকাই পায়নি। আক্রান্তদের মধ্যে ৯১ শতাংশের বয়স ১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০২৪-২৫ সময়ে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার ঘাটতি বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ। ২০০০ সালে টিকাদানের হার যেখানে ছিল প্রায় ৮৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০২০ সালের পর নিয়মিত সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি না থাকাও ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
এছাড়া অপুষ্টি ও ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে ভোগা শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা মৃত্যুর আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন
