বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমজানে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি থেকে বাঁচার ১০টি ঘরোয়া উপায়

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাসে রোজা রাখার সময় অনেকেই গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি বা পেটের সমস্যায় ভোগেন। দীর্ঘ সময় খালি থাকার পরে ইফতার বা সেহরিতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ফলে এসিডিটি বেড়ে যায়।

ইসলামী শরিয়তের দিক ও হাদিসের পরামর্শ অনুসারে, স্বাস্থ্য সচেতনভাবে রোজা রাখা সম্ভব। নিচে রোজার সময় গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায় আলোচনা করা হলো।

আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে স্বপ্নদোষ হলে গোসল কখন করতে হবে?

১. সেহরি কখন খাবেন সেহরি খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“সেহরি করো, কারণ এতে বরকত আছে।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) সেহরি দেরিতে খেলে পুরো দিনের জন্য পেট খালি থাকে না এবং অ্যাসিডিটি কম থাকে।

২. হালকা ও পুষ্টিকর খাবার নির্বাচন সেহরি ও ইফতারে ভারী, তেলাক্ত ও ঝাল খাবার বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। হালকা দানা, ওটস, দই, ফল ও বাদাম পেটকে শান্ত রাখে।

৩. পানি পর্যাপ্ত গ্রহণ সেহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানির অভাব গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটি বাড়ায়।

৪. ধীরে ধীরে ইফতার করা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ইফতার করো, তবে একসাথে অতিরিক্ত খাবার খাও না।” (সহিহ বুখারি)

প্রথমে কিছু খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করুন, তারপর হালকা খাবার খাওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় মুখের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়।

৫. অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা তীব্র ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার অ্যাসিডিটি বাড়ায়। সেহরি ও ইফতারে অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

৬. দই ও প্রোবায়োটিক অন্তর্ভুক্ত করা দই, ছানা বা লবণহীন দই পেটের জন্য উপকারী। এগুলো হজম সহজ করে ও অ্যাসিডিটি কমায়।

৭. ছোট ও নিয়ন্ত্রিত অংশে খাবার একবারে বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলুন। ছোট পরিমাণে খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কম হয়।

৮. স্থির বসে খাওয়া খাবার খাওয়ার সময় দ্রুত না খেয়ে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া উত্তম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“সবচেয়ে ভালো ব্যক্তি হলো যে ধীরে খায়।” (তিরমিজি)

৯. হালকা হাঁটা ও ব্যায়াম ইফতারের পর হালকা হাঁটা পেটের জন্য উপকারী। বসে থাকা বা ঘুমানো অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুনঃ রমজানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সতর্কতা।

১০. চা, কফি ও কার্বনেটেড পানীয় কম খাওয়া ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ও সোডা পেটে অ্যাসিড তৈরি করতে পারে। রোজার সময় এগুলো সীমিত পরিমাণে নিন।

রমজান মাসে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি থেকে বাঁচতে সেহরি, ইফতার, খাবারের ধরন ও পানির দিকে বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে হালকা খাবার, ধীরে খাওয়া ও পানি পর্যাপ্ত গ্রহণ করলে রোজা সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রাখা সম্ভব।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X