বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমজানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সতর্কতা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। এই মাসে মানুষ খাবার-পানীয় থেকে বিরত থাকে, কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় চোখ, কান ও অন্তরকে সংযত রাখা সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়—বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে।

ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত সময় কাটানো রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে রমজানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় চুল পড়া রোধে তেল ব্যবহার।

রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)

এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে রোজার উদ্দেশ্য শুধু না খাওয়া নয়, বরং নিজের নফস, চোখ, কান ও মনকে নিয়ন্ত্রণ করা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় যদি অশ্লীলতা, গীবত, মিথ্যা বা অনর্থক বিষয় দেখা হয়, তাহলে রোজার এই উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বড় বিপদ হলো অশ্লীল ছবি, ভিডিও ও উত্তেজনামূলক কনটেন্ট। এগুলো চোখের গুনাহ এবং অন্তরের রোগ সৃষ্টি করে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“চোখও ব্যভিচার করে, আর তার ব্যভিচার হলো (হারাম জিনিসের দিকে) তাকানো।” (সহিহ মুসলিম)

আরেক হাদিসে তিনি বলেন,

“রোজা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং অশ্লীল কাজে লিপ্ত না হয়।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে স্বপ্নদোষ হলে গোসল কখন করতে হবে?

অতএব রোজা রেখে যদি কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় হারাম ভিডিও বা ছবি দেখে, তবে রোজা ভাঙবে না ঠিকই, কিন্তু রোজার সওয়াব মারাত্মকভাবে কমে যাবে এবং আত্মিক ক্ষতি হবে।

শুধু রোজা রেখে যদি মুখ ও আঙুল দিয়ে গুনাহ করা হয়, তাহলে রোজার প্রকৃত ফল পাওয়া যায় না।

সময় নষ্ট করা থেকেও সতর্ক থাকা রমজান মাস অত্যন্ত মূল্যবান সময়। অথচ অনেক মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস, শর্ট ভিডিও বা অপ্রয়োজনীয় পোস্ট স্ক্রল করে কাটিয়ে দেয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“মানুষ দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়: স্বাস্থ্য ও অবসর সময়।” (সহিহ বুখারি)

রমজানের অবসর সময় যদি কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির ও ইবাদতের পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় নষ্ট হয়, তবে এটি বড় ক্ষতি।

মিথ্যা খবর ও ফিতনা ছড়ানো থেকে বিরত থাকা সোশ্যাল মিডিয়ায় যাচাই ছাড়া খবর শেয়ার করা ফিতনা সৃষ্টি করে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ, যদি কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও।” (সূরা হুজুরাত: ৬)

ভুল তথ্য শেয়ার করা গুনাহের কাজ, বিশেষ করে রমজানে এর ক্ষতি আরও বেশি। উপকারী কাজে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার

সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি পরিত্যাগ করা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। তবে এটিকে নেক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে—

যেমন কুরআনের আয়াত, হাদিস, ইসলামী আলোচনা ও দোয়া শেয়ার করা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পথ দেখাবে, সে ওই কাজকারীর সমান সওয়াব পাবে।” (সহিহ মুসলিম)

অতএব সোশ্যাল মিডিয়া যদি দাওয়াত ও নেক কাজের মাধ্যম হয়, তবে তা সওয়াবের কারণও হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় মুখের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়।

রমজান মাস শুধু পেটকে না খাওয়ানোর নাম নয়, বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও মনকে সংযত করার মাস। সোশ্যাল মিডিয়া যদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে তা রোজার আত্মিক উদ্দেশ্য ধ্বংস করে দিতে পারে।

কুরআন ও হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী একজন রোজাদারের দায়িত্ব হলো অশ্লীলতা, গীবত, মিথ্যা ও সময় নষ্ট করা থেকে বেঁচে থাকা।

সোশ্যাল মিডিয়াকে যদি ইবাদত ও নেক কাজের সহায়ক বানানো যায়, তবে সেটিও রমজানের বরকতের অংশ হতে পারে।

তাই এই পবিত্র মাসে সবচেয়ে বড় সতর্কতা হলো—নিজের চোখ ও আঙুলকে আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত রাখা এবং গুনাহ থেকে দূরে রাখা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X