

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“তোমরা খাও ও পান কর যতক্ষণ না ভোরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে পৃথক হয়ে যায়।” (সূরা বাকারা: ১৮৭)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, রোজা ভাঙার বিষয় মূলত খাওয়া ও পান করার সঙ্গে সম্পর্কিত, বাহ্যিক ব্যবহারের সঙ্গে নয়।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজা অবস্থায় মাথায় তেল ব্যবহার করতেন।” (সুনানে আবু দাউদ)
আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় থুতু বা কফ গিলে ফেলার বিধান।
এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে রোজা অবস্থায় মাথায় তেল লাগানো জায়েজ। চুল পড়া রোধের জন্য নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল বা সাধারণ তেল ব্যবহার করাও এই বিধানের অন্তর্ভুক্ত।
আরেকটি হাদিসে এসেছে,
“নবী (সা.) চুলে মেহেদি ও কাতাম ব্যবহার করতেন।” (সুনানে আবু দাউদ, মুসনাদ আহমদ)
এ থেকে বোঝা যায়, চুলের যত্ন নেওয়া ও সাজসজ্জা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়, বরং শালীনতার মধ্যে বৈধ।
ত্বক দিয়ে শোষিত হলে রোজা ভাঙে না অনেকে মনে করেন, তেল ত্বকের ভেতরে শোষিত হলে রোজা ভেঙে যাবে।
ফিকহবিদদের মতে, ত্বক দিয়ে শোষিত কোনো বস্তু পাকস্থলীতে প্রবেশ করে না এবং তা খাওয়া-পান করার অর্থ বহন করে না।
ইমাম নববি (রহ.) বলেন, “যদি কেউ শরীরে তেল বা মলম ব্যবহার করে এবং তা ত্বক দিয়ে শোষিত হয়, তবে এতে রোজা ভাঙে না।” (আল-মাজমু‘)
অতএব চুলে তেল লাগালে রোজা নষ্ট হয় না।
আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু খাওয়া কি জায়েজ?
শর্ত ও সতর্কতা
যদিও চুলে তেল ব্যবহার জায়েজ, তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। একটি হলো—তেল যেন মুখ বা গলায় প্রবেশ না করে। মাথায় তেল লাগানোর পর হাত দিয়ে মুখে বা জিহ্বায় লাগিয়ে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
আরেকটি বিষয় হলো—তীব্র সুগন্ধিযুক্ত তেল নাকে টেনে শোঁকা উচিত নয়, কারণ এতে কণিকা গলায় প্রবেশের আশঙ্কা থাকে।
স্বাস্থ্যগত দিক
চুল পড়া অনেক সময় শরীরের দুর্বলতা, পানির ঘাটতি ও পুষ্টির অভাবে হয়। রোজা অবস্থায় তেল ব্যবহার বাহ্যিকভাবে উপকার করতে পারে, তবে সেহরি ও ইফতারে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করাই মূল সমাধান।
আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে সুরা বা অ্যালকোহল যুক্ত পারফিউম ব্যবহার।
রোজা অবস্থায় চুল পড়া রোধে তেল ব্যবহার শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ এবং এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস থেকে প্রমাণিত যে বাহ্যিকভাবে মাথায় তেল লাগানো জায়েজ।
তবে রোজার মূল শিক্ষা হলো তাকওয়া ও আত্মসংযম। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া যাবে, কিন্তু ইবাদত ও আত্মশুদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
মন্তব্য করুন

