সোমবার
১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজা রেখে সুগন্ধি বা অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম ব্যবহার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ইসলামী শরিয়তে রোজা ভাঙে তখনই, যখন ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বস্তু স্বাভাবিক পথে (মুখ বা নাক দিয়ে) শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে এবং তা খাদ্য বা ওষুধের অর্থ বহন করে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমরা খাও ও পান কর যতক্ষণ না ভোরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে পৃথক হয়ে যায়।” (সূরা বাকারা: ১৮৭)

আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে মৃত ব্যক্তিকে গোসল দিলে কি ওজু ভাঙে?

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, রোজা ভাঙার বিষয়টি মূলত খাওয়া-পান করা ও তার সমপর্যায়ের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত, বাহ্যিক সুগন্ধি ব্যবহারের সঙ্গে নয়।

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন,

“আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে রোজা অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করতে দেখেছি।” (সুনানে আবু দাউদ)

আরেক হাদিসে এসেছে,

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“তিনটি জিনিস রোজাদারের জন্য নিষিদ্ধ নয়: কুলি করা, ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা এবং সুগন্ধি লাগানো।” (বায়হাকি – অর্থগত)

এই হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে রোজা অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার নিজেই হারাম নয় এবং এতে রোজা ভাঙে না।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রোজাদার যেন ধূপ (বখুর) বা ধোঁয়া জাতীয় সুগন্ধি ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রহণ না করে।” (আবু দাউদ)

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় থুতু বা কফ গিলে ফেলার বিধান।

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, ধূপ বা ধোঁয়ার মতো বস্তু নাক দিয়ে টেনে ভেতরে নেওয়া হলে তা কণার আকারে গলায় প্রবেশ করতে পারে, যা রোজার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

কিন্তু সাধারণ তরল পারফিউম বা আতর লাগানো এই পর্যায়ে পড়ে না। অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউমের বিধান

বর্তমান সময়ে অধিকাংশ পারফিউমেই অ্যালকোহল থাকে, যা মূলত সুগন্ধি ছড়ানোর জন্য দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি পান করার উদ্দেশ্যে নয় এবং নেশা সৃষ্টির জন্য ব্যবহৃত হয় না।

হাদিসে এসেছে, “যা নেশা সৃষ্টি করে, তার অল্পও হারাম।” (সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস পানযোগ্য অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু পারফিউমের অ্যালকোহল পানযোগ্য নয় এবং তা নেশার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় না।

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু খাওয়া কি জায়েজ?

অধিকাংশ ফকিহের মতে, এ ধরনের অ্যালকোহল নাপাক নয় এবং বাহ্যিক ব্যবহারে তা হারাম হয় না।

অতএব অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম শরীরে লাগালে রোজা ভাঙে না এবং তা ব্যবহার করা জায়েজ।

যদি কেউ শুধু পারফিউম শরীরে বা কাপড়ে লাগায় এবং স্বাভাবিকভাবে তার গন্ধ পায়, এতে রোজা ভাঙে না।

কিন্তু যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নাকে টেনে গভীরভাবে শোঁকে, যাতে কণিকা গলায় প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তা মাকরুহ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

রোজার আদব ও সতর্কতা

রোজার আদবের মধ্যে এটাও অন্তর্ভুক্ত যে মানুষ এমন কাজ থেকে দূরে থাকবে, যা সন্দেহ সৃষ্টি করে বা রোজা ভাঙার আশঙ্কা তৈরি করে।

রোজা অবস্থায় সুগন্ধি বা অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম ব্যবহার শরিয়তসম্মতভাবে জায়েজ এবং এতে রোজা নষ্ট হয় না।

হাদিস থেকে প্রমাণিত যে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে রোজা অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করেছেন।

তবে ধোঁয়া জাতীয় সুগন্ধি বা ইচ্ছাকৃতভাবে নাকে টেনে গন্ধ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উত্তম।

রোজার প্রকৃত শিক্ষা হলো আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জন। তাই সন্দেহপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলাই একজন রোজাদারের জন্য সর্বোত্তম পথ

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
FIFA World Cup
LIVE
No match data available
World Cup