বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজা রেখে নখ কামড়ালে কি রোজা মাকরুহ হয়?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রোজা ভাঙার মূল কারণ হলো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বস্তু মুখ দিয়ে শরীরের ভেতরে (গলা বা পাকস্থলীতে) প্রবেশ করানো। খাওয়া, পান করা বা ওষুধ গিলে ফেলা রোজা ভঙ্গের কারণ।

কিন্তু শুধু মুখে কোনো কিছু নেওয়া বা কামড় দেওয়া যদি তা গিলে না ফেলা হয় তাতে রোজা ভাঙে না।

নখ কামড়ানোর বিষয়টি দুইভাবে হতে পারে।

কেউ নখ কামড়াল, কিন্তু নখের কোনো অংশ বা কিছু গিলে ফেলেনি। এ অবস্থায় রোজা ভাঙবে না।

আরও পড়ুনঃ সেহরির সময় ও আজানের সময়ের পার্থক্য কতটুকু?

তবে এটি রোজার আদবের পরিপন্থী কাজ হওয়ায় রোজা মাকরুহ হবে।

নখ কামড়ানোর সময় নখের অংশ বা কিছু মুখের ভেতরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেলা হলো।

এ অবস্থায় রোজা ভেঙে যাবে, কারণ এটি মুখ দিয়ে কিছু ভেতরে প্রবেশ করানোর শামিল।

এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

“তোমরা খাও ও পান কর যতক্ষণ না ভোরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে পৃথক হয়ে যায়।” (সূরা বাকারা: ১৮৭)

এই আয়াত প্রমাণ করে, ফজরের পর ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খাওয়া বা গিলে ফেলা হারাম এবং রোজা ভঙ্গকারী।

নখ কামড়ানো কেন মাকরুহ

নখ কামড়ানো ইসলামে অপছন্দনীয় অভ্যাস হিসেবে গণ্য হয়। এটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিরুদ্ধে এবং অনেক সময় মুখে নোংরা জিনিস প্রবেশের কারণ হয়।

রোজা অবস্থায় এ ধরনের কাজ আরও বেশি অনুচিত, কারণ রোজার উদ্দেশ্য শুধু না খাওয়া নয়; বরং আত্মসংযম ও চরিত্র শুদ্ধ করা।

আরও পড়ুনঃ রোজা অবস্থায় রক্ত বের হলে কি ওজু বা রোজা নষ্ট হয়?

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, আল্লাহর কাছে তার শুধু পানাহার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন নেই।” (সহিহ বুখারি)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রোজা মানে শুধু খাওয়া বন্ধ করা নয়, বরং সব ধরনের খারাপ অভ্যাস ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।

আরেকটি হাদিসে এসেছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্রতাকেই পছন্দ করেন।” (তিরমিজি)

নখ কামড়ানো পবিত্রতা ও শালীনতার পরিপন্থী অভ্যাস। তাই রোজা অবস্থায় এটি আরও বেশি বর্জনীয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমার উম্মত ভুলে করা কাজ, ভুলে যাওয়া এবং জবরদস্তির কারণে দায়মুক্ত।” (ইবন মাজাহ)

রোজার আদব ও আত্মসংযম

আরও পড়ুনঃ নাপাক অবস্থায় সেহরি খেলে কি রোজা হবে?

রমজান মাসের মূল শিক্ষা হলো আত্মসংযম ও চরিত্র সংশোধন। নখ কামড়ানো শুধু শারীরিক ক্ষতির কারণ নয়।

বরং এটি একটি খারাপ অভ্যাস যা মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রোজা এই অভ্যাস ত্যাগ করার উত্তম সুযোগ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“রোজা ঢালস্বরূপ; তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং ঝগড়া না করে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এই হাদিসে রোজাকে ঢাল বলা হয়েছে, যা মানুষকে সব খারাপ কাজ থেকে রক্ষা করে।

রোজা রেখে নখ কামড়ানো রোজা ভাঙার কারণ নয়, যদি কিছু গিলে ফেলা না হয়। তবে এটি একটি খারাপ অভ্যাস এবং রোজার আত্মিক উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয়, রোজা শুধু না খাওয়ার নাম নয়; বরং চরিত্র সংশোধনের নাম।

তাই রমজান মাসে নখ কামড়ানোসহ সব ধরনের অশোভন ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করার চেষ্টা করা উচিত।

এতে রোজার সওয়াব পূর্ণতা পাবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X