

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক অপার নিয়ামত। এই মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। তবুও আশ্চর্যের বিষয় হলো—এত বড় রহমতের মাস পেয়েও কিছু মানুষ এমন আছে, যাদের গুনাহ মাফ হয় না।
এ বিষয়ে একটি অত্যন্ত ভয়ংকর ও চিন্তার হাদিস রয়েছে, যেখানে হজরত জিবরাঈল (আ.) তিন শ্রেণির মানুষের জন্য বদদোয়া করেছেন, আর রাসূলুল্লাহ ﷺ সেই বদদোয়ার ওপর “আমিন” বলেছেন।
এই হাদিস আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। কারণ জিবরাঈল (আ.) সাধারণ কোনো ফেরেশতা নন; তিনি ওহির বাহক। তাঁর বদদোয়া মানে আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ।
হাদিসের বর্ণনা রাসূলুল্লাহ ﷺ একদিন মিম্বরে উঠলেন। তিনি
প্রথম সিঁড়িতে উঠে বললেন, “আমিন।” দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠে বললেন, “আমিন।” তৃতীয় সিঁড়িতে উঠে আবার বললেন, “আমিন।” নামাজ শেষে সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আজ আপনাকে এমন কিছু বলতে শুনলাম, যা আমরা আগে কখনো শুনিনি।”
তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন— “জিবরাঈল (আ.) আমার কাছে এসে বললেন: যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, অথচ তার গুনাহ মাফ হলো না জিবরাঈল (আ.) বললেন: ‘ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি, যে রমজান মাস পেল, অথচ তার গুনাহ মাফ হলো না।’আমি বললাম: আমিন।
ব্যাখ্যা: রমজান হলো গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ। রোজা, নামাজ, কুরআন, দোয়া, তওবা—সবই এই মাসে সহজ করে দেওয়া হয়। তারপরও যদি কেউ আল্লাহর কাছে ফিরে না আসে, তওবা না করে, গুনাহ ছাড়ার চেষ্টা না করে—তাহলে তার চেয়ে দুর্ভাগা আর কে হতে পারে?
এই বদদোয়া প্রমাণ করে, রমজান পেয়েও ক্ষমা না পাওয়া চরম ব্যর্থতা। যে ব্যক্তি বাবা-মাকে পেল, কিন্তু তাদের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারল না জিবরাঈল (আ.) বললেন: ‘ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি, যার বাবা-মা বা তাদের একজন বার্ধক্যে পৌঁছাল, অথচ সে তাদের খেদমত করে জান্নাতে যেতে পারল না।’ আমি বললাম: আমিন।
ব্যাখ্যা: বাবা-মা হলো জান্নাতের সবচেয়ে সহজ দরজা। তাদের খেদমত, সম্মান ও দোয়া—এসবের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। তবুও যে ব্যক্তি বাবা-মাকে কষ্ট দেয় বা অবহেলা করে, সে নিজের হাতেই জান্নাতের দরজা বন্ধ করে দেয়। রমজানে এই গুনাহ আরও ভয়ংকর, কারণ এই মাসে নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণে বাড়ে।
যার সামনে রাসূল ﷺ–এর নাম উচ্চারণ করা হলো, অথচ সে দরুদ পড়ল না জিবরাঈল (আ.) বললেন: ‘ধ্বংস হোক সেই ব্যক্তি, যার সামনে আপনার নাম উচ্চারণ করা হলো, অথচ সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করল না।’ আমি বললাম: আমিন।
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর ওপর দরুদ পড়া শুধু সুন্নাহ নয়, বরং আল্লাহর আদেশ। দরুদ পাঠের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং দোয়া কবুল হয়। বিশেষ করে রমজান মাসে দরুদের ফজিলত আরও বেশি। তবুও যে ব্যক্তি অবহেলা করে, সে নিজেই নিজের জন্য ক্ষতি ডেকে আনে।
আমাদের জন্য শিক্ষা এই তিনটি বদদোয়া আমাদেরকে গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে— আমি কি রমজান পেয়েও আল্লাহর কাছে পুরোপুরি ফিরে এসেছি? আমি কি আমার বাবা-মায়ের হক আদায় করছি? আমি কি রাসূল ﷺ–এর নাম শুনে দরুদ পড়ি? রমজান শুধু রোজা রাখার নাম নয়; এটি নিজেকে বদলে ফেলার মাস। যদি এই মাসেও আমরা গুনাহ ছাড়তে না পারি, তওবা না করি, তাহলে আমাদের জন্য আর কোন সময় থাকবে?
দোয়া হে আল্লাহ, আমাদেরকে রমজানের পূর্ণ বরকত দান করুন। আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিন। বাবা-মায়ের খেদমত করার তাওফিক দিন এবং রাসূল ﷺ–এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার অভ্যাস দান করুন। আমিন ।
মন্তব্য করুন

