মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজা অবস্থায় বেশি বেশি পড়ার জন্য ৫টি ছোট ও সহজ জিকির

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০১ পিএম আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাস আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসে একজন রোজাদারের প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে জিকির, যা মুখে উচ্চারণ করা সহজ কিন্তু সওয়াবের দিক থেকে অত্যন্ত ভারী।

রোজা অবস্থায় সারাদিন অনেক সময় থাকে যখন বড় ইবাদত করা সম্ভব হয় না, কিন্তু জিকির করা যায় সহজেই। তাই রোজার সময় ছোট ও সহজ জিকির বেশি বেশি পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে রোজা অবস্থায় পড়ার জন্য পাঁচটি সহিহ, সহজ ও ফজিলতপূর্ণ জিকিরের আলোচনা করা হলো, যা কুরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

১. “সুবহানাল্লাহ”। এর অর্থ হলো, আল্লাহ সমস্ত দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র। এই জিকিরটি আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা প্রকাশ করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” দিনে একশ বার পড়ে, তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো হয়।

এই হাদিসটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। রোজা অবস্থায় ক্লান্তি বা দুর্বলতা এলে মনে মনে বা মুখে এই জিকির পড়লে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং রোজার কষ্ট সহজ হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ ভাগ্য পরিবর্তনের দোয়া: শবে কদরে যা বেশি বেশি পড়বেন।

২.“আলহামদুলিল্লাহ”। এর অর্থ, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। রোজা রাখা নিজেই একটি বড় নিয়ামত, আর সেই নিয়ামতের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা বান্দার কর্তব্য।

সহিহ হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা সেই বান্দাকে ভালোবাসেন, যে খাওয়া বা পান করার পর আলহামদুলিল্লাহ বলে। রোজাদার ইফতারের আগ পর্যন্ত না খেয়ে থেকেও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে এই জিকিরের মাধ্যমে। এটি বান্দার অন্তরে কৃতজ্ঞতা তৈরি করে এবং তাকওয়া বৃদ্ধি করে।

৩. “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। এর অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। এটি তাওহিদের মূল কথা এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠ জিকির। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম জিকির হলো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। এই হাদিসটি তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে।

রোজার সময় এই জিকির বেশি বেশি পড়লে ঈমান মজবুত হয় এবং শিরক ও গুনাহ থেকে দূরে থাকার শক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে ইফতারের আগ মুহূর্তে এই জিকিরের সঙ্গে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

আরও পড়ুনঃ ইতেকাফে বসার দোয়া ও মসজিদে প্রবেশের নিয়ম।

৪. “আল্লাহু আকবার”। এর অর্থ, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। এই জিকির মানুষের অন্তরে আল্লাহর বড়ত্ব ও ক্ষমতার অনুভূতি জাগ্রত করে। রোজা অবস্থায় ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও দুর্বলতা অনুভব হলে এই জিকির বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান

এবং তিনিই এই কষ্ট সহ্য করার তাওফিক দিচ্ছেন। নামাজের তাকবির থেকে শুরু করে জীবনের নানা মুহূর্তে এই জিকির পড়া সুন্নত দ্বারা প্রমাণিত।

৫. “আস্তাগফিরুল্লাহ” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিকির। এর অর্থ, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন, আর তাকওয়ার অন্যতম পথ হলো তাওবা ও ইস্তিগফার। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল।

আরও পড়ুনঃ রমজানে সকাল-সন্ধ্যার জিকির ও দোয়া: একটি কমপ্লিট রুটিন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে দিনে সত্তরবারের বেশি ইস্তিগফার করতেন, যা সহিহ বুখারিতে বর্ণিত। রোজা অবস্থায় এই জিকির বেশি পড়লে গুনাহ মাফ হয় এবং অন্তর পরিশুদ্ধ হয়।

উপসংহারে বলা যায়, রোজা অবস্থায় বেশি বেশি জিকির করা একজন মুমিনের জন্য সহজ অথচ অত্যন্ত লাভজনক আমল। উপরে উল্লেখিত এই পাঁচটি জিকির ছোট, সহজ এবং যে কোনো সময় পড়া যায়। এগুলো পড়ার জন্য বিশেষ জায়গা বা সময়ের প্রয়োজন নেই।

চলতে-ফিরতে, কাজের ফাঁকে, ইফতারের অপেক্ষায় কিংবা বিশ্রামের সময় এই জিকিরগুলো পড়লে রোজা শুধু উপবাসে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইবাদতে পরিণত হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানে বেশি বেশি জিকির করার তাওফিক দান করুন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X