

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজান মাস মুসলমানদের জন্য ইবাদত ও তাওবার মাস। এই মাসে দিন শুরু থেকে রাত পর্যন্ত আল্লাহর স্মরণ, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে জীবনকে বরকতপূর্ণ ও সফল করা সম্ভব। সকালে সেহরি থেকে শুরু করে ইফতারের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় আলাদা আলাদা জিকির ও দোয়া পড়ার সুন্নত রয়েছে।
এখানে একটি কমপ্লিট রুটিন দেয়া হলো, যা অনুসরণ করলে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর স্মরণে পূর্ণ করা সম্ভব।
সকাল (সেহরি ও ফজরের আগে) 1.সেহরির আগে নফল ওজু ও দোয়া: সেহরি নেওয়ার আগে ওজু করা উত্তম। সেহরির খাবারের আগে সূক্ষ্মভাবে আল্লাহর স্মরণ ও দোয়া করা উচিত। হাদিসে এসেছে, “সেহরি নিলে বরকত আছে।” 2.সেহরির দোয়া: সেহরির সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দোয়া পড়তেন, তা হলো— আরবি: وَبِسْمِ اللّٰهِ وَعَلَىٰ رِزْقِ اللّٰهِ বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়া ‘আলা রিজকিল্লাহ অর্থ: আল্লাহর নামে, এবং আল্লাহর দেওয়া রিযিকের উপর নির্ভর করে।
আরও পড়ুনঃ শবে কদরের রাতে কান্নাকাটি করে দোয়া করার নিয়ম ও আদব। 3.ফজরের নামাজের আগে জিকির: ইস্তিগফার: “আস্তাগফিরুল্লাহ আল আজীম” ৩ বার। তাহলিল: “লাহি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” ১০ বার। তাহমিদ: “আলহামদুলিল্লাহ” ১০ বার। তাসবিহ: “সুবহানাল্লাহ” ১০ বার। ফজরের পর 1.ফজরের ফরজ নামাজ পড়ার পর: দোয়া: আরবি: اَللّٰهُمَّ اجعلنا من التوابين واجعلنا من المتطهرين বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজ‘আলনা মিনাত তাওবিন ওয়াজ‘আলনা মিনাল মুততাহিরিন অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের তাওবাকারীদের মধ্যে রাখুন এবং পরিশুদ্ধদের অন্তর্ভুক্ত করুন। 2.কোরআন তিলাওয়াত ও অন্তরিক ধ্যান: ১০–১৫ মিনিট কোরআন তিলাওয়াত করা উত্তম। এই সময় মন শান্ত রেখে আল্লাহর স্মরণ করা উচিত। দুপুর
1.যখন রোজা কঠিন মনে হয়: ছোট ছোট জিকির ও দোয়া করুন, যেমন— আরবি: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ বাংলা উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আল্লাহ মহান। 2.দুপুরের নামাজের পর: নামাজের পরে ৩ বার তাসবিহ, ৩ বার তাহমিদ, ৩ বার তাহলিল এবং ৩ বার দোয়া করা সুন্নত। বিকেল 1.আসর নামাজের আগে এবং পরে: আল্লাহর নিকট ধৈর্য ও সহনশীলতার জন্য দোয়া করুন। নফল নামাজের পরে কুরআন তিলাওয়াত ও সংক্ষিপ্ত দোয়া পড়ুন।
আরও পড়ুনঃ ভাগ্য পরিবর্তনের দোয়া: শবে কদরে যা বেশি বেশি পড়বেন। 2.ইফতারের আগ মুহূর্ত: দোয়া পড়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রোজা ভাঙার সময় দোয়া পড়ে, আল্লাহ তার দোয়া গ্রহণ করবেন।” দোয়াটির উদাহরণ: আরবি: اَللّٰهُمَّ اِنِّي لَكَ صُمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইননি লাকা সোম্তু ওয়া বিকা আমান্তু ওয়া ‘আলাইকা তাওয়াক্কাল্তু ওয়ালা রিজকিকা আফতার্তু অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার জন্য রোজা রেখেছি, আপনার উপর বিশ্বাস রাখি, আপনার রিযিকের ওপর ভরসা করে ইফতার করছি। সন্ধ্যা (মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত) ইফতার ও নামাজের পর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জিকির: 1. “আলহামদুলিল্লাহ” বারবার পড়া। 2. শরীর ও আত্মার জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। 3. তারাবি বা নফল নামাজের আগে দোয়া ও ধ্যান: 4. নিজের গুনাহ মাফ ও তাকওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। 5. দোয়া শেষ করার আগে দরুদ শরিফ পড়া।
আরও পড়ুনঃ ইতেকাফে বসার দোয়া ও মসজিদে প্রবেশের নিয়ম। রাতের শেষ অংশে: শবে কদর থাকলে “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নি” দোয়া বেশি বেশি পড়া উত্তম। রাতের তাহাজ্জুদ ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা।
এই কমপ্লিট রুটিন অনুসরণ করলে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর স্মরণ ও বরকতপূর্ণ ইবাদতে পূর্ণ করা সম্ভব। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সঠিক সময়, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে একজন বান্দা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জন করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রতিটি দোয়া অন্তর থেকে করা এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা। রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর স্মরণে উৎসর্গ করলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই কল্যাণে পরিপূর্ণ হয়।
মন্তব্য করুন

