মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগফিরাতের ১০ দিন: গুনাহ মাফের জন্য শ্রেষ্ঠ দোয়া কোনটি?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০১ পিএম আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক মহামূল্যবান সময়। ইসলামী বর্ণনায় রমজানকে তিনটি দশকে ভাগ করা হয়েছে—রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত। এর মধ্যে দ্বিতীয় দশক, অর্থাৎ ১১ থেকে ২০ রমজান, পরিচিত মাগফিরাতের দশক হিসেবে।

‘মাগফিরাত’ শব্দের অর্থ হলো গুনাহ ঢেকে দেওয়া, ক্ষমা করে দেওয়া এবং শাস্তি থেকে রক্ষা করা। এই সময় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের গুনাহ মাফ করার দরজা বিশেষভাবে খুলে দেন। তাই এই দশকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—গুনাহ মাফের জন্য শ্রেষ্ঠ দোয়া কোনটি এবং কীভাবে এই সময়টিকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগানো যায়।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে দেখা যায়, আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো ইস্তিগফার। ইস্তিগফার মানে শুধু মুখে “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা নয়, বরং অন্তর থেকে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, “হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।” (সুরা যুমার, আয়াত: ৫৩)। এই আয়াত মাগফিরাতের দশকের মূল বার্তা বহন করে।

আরও পড়ুনঃ ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়: সেরা ১০টি ছোট দোয়া যা পাঠ করা উচিত।

গুনাহ মাফের জন্য হাদিসে বর্ণিত সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দোয়াগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে যে দোয়াটি আসে, তা হলো ‘সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার’। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দোয়াটিকে ইস্তিগফারের শ্রেষ্ঠ দোয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি দিনের বেলায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এই দোয়া পড়বে এবং সেদিন মারা যাবে, সে জান্নাতি হবে।” (সহিহ বুখারি)। এই দোয়ার অর্থে বান্দা নিজের গুনাহ স্বীকার করে নেয়, আল্লাহর নিয়ামতের স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারের পাশাপাশি আরেকটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী দোয়া হলো—“রব্বিগফিরলি।” অর্থাৎ, হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন। এই দোয়াটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও বহুবার পড়তেন। কখনো কখনো তিনি এক মজলিসেই বহুবার “রব্বিগফিরলি” বলতেন, যা প্রমাণ করে যে গুনাহ মাফের জন্য সংক্ষিপ্ত দোয়া হলেও তা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে, যদি তা অন্তর থেকে আসে।

মাগফিরাতের দশকের জন্য আরেকটি বহুল প্রচলিত দোয়া হলো—“আস্তাগফিরুল্লাহাল আযীমাল্লাযি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহ।” এর অর্থ হলো—আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক, এবং আমি তাঁর দিকেই ফিরে আসি। এই দোয়াটি শুধু ক্ষমা প্রার্থনা নয়, বরং তাওবার ঘোষণাও বহন করে।

আরও পড়ুনঃ ইফতারের দোয়া ভুলে খেয়ে ফেললে করণীয় কী? পরে পড়া যাবে?

মাগফিরাতের দশকে দোয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাওবার শর্তগুলো পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলেমদের মতে, খাঁটি তাওবার তিনটি মূল শর্ত রয়েছে—গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, কৃত গুনাহর জন্য অন্তর থেকে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা। যদি গুনাহ মানুষের হকের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেই হক আদায় করাও তাওবার অংশ। এই শর্তগুলো পূরণ হলে দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যায়।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিনে সত্তরের বেশি বার ইস্তিগফার করতেন। (সহিহ বুখারি)। তিনি ছিলেন নিষ্পাপ, তবুও যদি তিনি এত বেশি ক্ষমা চাইতেন, তাহলে আমাদের মতো গুনাহগার বান্দাদের জন্য মাগফিরাতের দশকে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা কতটা জরুরি, তা সহজেই বোঝা যায়।

এই দশকে দোয়ার উত্তম সময় হলো সেহরির সময়, নামাজের পর, ইফতারের আগে এবং নিরিবিলি সময়ে। বিশেষ করে রাতের শেষ অংশে আল্লাহ তাআলা নিকটবর্তী হন এবং বলেন, কে আছে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। এই হাদিস মাগফিরাতের দশকের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তোলে।

আরও পড়ুনঃ রহমতের ১০ দিন: প্রথম ১০ রোজার বিশেষ দোয়া ও আমল।

সবশেষে বলা যায়, মাগফিরাতের ১০ দিনে গুনাহ মাফের জন্য শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার এবং আন্তরিক ইস্তিগফারভিত্তিক দোয়াগুলো। তবে দোয়ার শব্দের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো অন্তরের অনুশোচনা ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। যদি এই দশকে বান্দা সত্যিকার অর্থে তাওবা করতে পারে, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও রহমত লাভ করা তার জন্য অসম্ভব নয়।

অতএব মাগফিরাতের দশককে শুধু সময় হিসেবে নয়, বরং জীবন বদলে দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পথ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X