মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইফতারের দোয়া ভুলে খেয়ে ফেললে করণীয় কী? পরে পড়া যাবে?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাসে রোজা পালনকারী মুসলমানদের জন্য ইফতারের মুহূর্ত হলো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ সময়। সারাদিন সংযম, পানাহার থেকে বিরত থাকা এবং ইবাদতের পর ইফতারের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্য সেরা সময় হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে বলা হয়েছে, “রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময় প্রত্যাখ্যাত হয় না।” (সুনানে তিরমিজি)। এই সময়কে ধরে সঠিক দোয়া করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ইফতারের সময় দোয়া করা মানে শুধুমাত্র নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণ চাওয়া নয়, বরং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও বরকতের কামনা করা। এখানে ১০টি ছোট দোয়া দেওয়া হলো যা সহজভাবে মনে মনে বা মুখে উচ্চারণ করা যায়: ১. আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিজক্কা আফতারতু – অর্থ, হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি। এটি সবচেয়ে প্রচলিত ও সুন্নাহর দোয়া।

আরও পড়ুনঃ মুখে উচ্চারণ করে রোজার নিয়ত করা কি জরুরি? নাকি মনে মনে করলেই হবে?

২. রাব্বনা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতওয়া কীনাঅযাবান নার – অর্থ, হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে উত্তম নিযাম দাও এবং আমাদেরকে নরকের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।

৩. আল্লাহুম্মা ইনা নাসআলুকাল-জান্নাতা – অর্থ, হে আল্লাহ! আমরা জন্নাতের জন্য দোয়া করছি।

৪. আল্লাহুম্মা ইনা নস্তাগফিরুকা – অর্থ, হে আল্লাহ! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

৫. রাব্বী জ্বাল নাফসী ইল্লা মা হামদতু কা – অর্থ, হে প্রভু! আমার আত্মাকে শুধুমাত্র তোমার প্রশংসার মধ্যে রাখো।

৬. আল্লাহুম্মা ইহফায্না মিনাফসিল শাইতান – অর্থ, হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তানের ফন্দি থেকে রক্ষা কর।

৭. আল্লাহুম্মা বারিক লান ফি রিজক্কা – অর্থ, হে আল্লাহ! আমাদের রিজিকে বরকত দাও।

আরও পড়ুনঃ অন্যের বাড়িতে ইফতার করলে মেজবানের জন্য কী দোয়া করতে হয়?

৮. রাব্বনা হাব লানা মিন লাদুনকা রহমতান – অর্থ, হে আমাদের প্রভু! আমাদের ওপর আপনার দয়া বর্ষণ করুন।

৯. আল্লাহুম্মা আউযুবিকা মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়াজুর – অর্থ, হে আল্লাহ! আমি প্রতিটি শয়তান ও তার প্রভাব থেকে আপনার শরণাপন্ন হচ্ছি।

১০. আল্লাহুম্মা জাব নাজিলাল খাইর – অর্থ, হে আল্লাহ! আমাদেরকে প্রতিদিনকার ভালো কাজ ও বরকত দাও। এই ছোট দোয়াগুলো মুখে পড়া বা মনে মনে উচ্চারণ করা যায়। হাদিসে এসেছে, ইফতারের সময় দোয়া তিনটি কারণে কবুল হয়—একটি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, দ্বিতীয় হলো দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাওয়া, এবং তৃতীয় হলো ক্ষুধা ও তৃষ্ণা দূর করার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

ইফতারের আগে দোয়া করলে তা দ্রুত কবুল হওয়ার সুযোগ থাকে। তবে ইফতার সম্পন্ন হওয়ার পরে “আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু…” বা যাহাবায যামাউ… দোয়া পড়ারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসারে করা হয়।

আরও পড়ুনঃ ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়: সেরা ১০টি ছোট দোয়া যা পাঠ করা উচিত।

দোয়াগুলো ছোট ও সহজ হওয়ায় যেকেউ সহজে মনে রাখতে পারে। এছাড়া দোয়াগুলো শুধু নিজের জন্য নয়, পরিবারের জন্য, বন্ধুদের জন্য এবং সারা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্যও পড়া যেতে পারে। এতে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পায়।

চিকিৎসা ও মানসিক দিক থেকেও দেখা গেছে, রোজার পর সংযমের মুহূর্তে শরীর ও মন শান্ত থাকে। তাই এই সময় দোয়া করলে মন বেশি মনোযোগী হয় এবং অন্তরের গভীরতা বৃদ্ধি পায়।

সবশেষে বলা যায়, ইফতারের সময় দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ। এই ১০টি ছোট দোয়া সহজ, মুখে বা মনে পড়া যায় এবং রোজা ও ইবাদতের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ইফতারের মুহূর্তে দোয়া করা শুধু নিজের কল্যাণ নয়, বরং সমাজ ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং রমজান মাসে প্রতিদিন ইফতারের সময় এই দোয়াগুলো নিয়মিত উচ্চারণ করা উত্তম ও সুন্নাহর অনুসরণ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X