মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রহমতের ১০ দিন: প্রথম ১০ রোজার বিশেষ দোয়া ও আমল।

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী রমজানকে সাধারণভাবে তিনটি দশকে ভাগ করা হয়—প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশক নাজাতের। এই বিভাজন আমাদের আমল ও দোয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ তৈরি করে।

বিশেষ করে রমজানের প্রথম ১০ দিন, যাকে রহমতের দশক বলা হয়, এই সময় আল্লাহ তাআলার দয়া ও অনুগ্রহ ব্যাপকভাবে নাজিল হয়। তাই এই সময়ের বিশেষ দোয়া ও আমল সম্পর্কে জানা ও তা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রহমত অর্থ দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ। আল্লাহ তাআলা নিজেই কুরআনে বলেছেন, “আমার রহমত সব কিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে।” (সুরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৬)। রমজানের প্রথম দশকে এই রহমতের দরজা আরও বেশি উন্মুক্ত থাকে। বান্দা যদি আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, তাহলে আল্লাহ তার ওপর বিশেষ দয়া বর্ষণ করেন।

আরও পড়ুনঃ অন্যের বাড়িতে ইফতার করলে মেজবানের জন্য কী দোয়া করতে হয়?

এই রহমত শুধু গুনাহ মাফের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ঈমান মজবুত করা, অন্তরের প্রশান্তি লাভ এবং নেক আমলের তাওফিক পাওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত।

প্রথম দশকের জন্য সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দোয়া হলো—“রব্বিগফির ওয়ারহাম, ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।” এর অর্থ, হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন, আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। যদিও এই দোয়াটি নির্দিষ্টভাবে শুধু প্রথম দশকের জন্য সীমাবদ্ধ—এমন স্পষ্ট হাদিস নেই, তবে রহমতের অর্থ ও ভাবের সঙ্গে এই দোয়ার গভীর মিল রয়েছে। তাই আলেমরা এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।

রহমতের দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো আন্তরিক তাওবা ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। অনেক সময় মানুষ মনে করে, তাওবা শুধু গুনাহগারদের জন্য। অথচ সাহাবায়ে কেরাম ও স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও নিয়মিত ইস্তিগফার করতেন। হাদিসে এসেছে, নবীজি দিনে সত্তরের বেশি বার ইস্তিগফার করতেন। (সহিহ বুখারি)। তাই প্রথম দশকে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম।

আরও পড়ুনঃ ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়: সেরা ১০টি ছোট দোয়া যা পাঠ করা উচিত।

নামাজের ক্ষেত্রে ফরজের পাশাপাশি সুন্নত ও নফল নামাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এই দশকের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ ও সালাতুদ-দুহা আদায় করলে আল্লাহর নৈকট্য বৃদ্ধি পায়। কুরআন তিলাওয়াতও রহমতের দশকের একটি বড় আমল। কুরআন নিজেই রহমত হিসেবে নাজিল হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, “আমি কুরআন নাজিল করেছি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৮২)। তাই প্রতিদিন কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত ও অর্থ বোঝার চেষ্টা করা এই দশকের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

রহমতের দশকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা। দয়া ও করুণা শুধু দোয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আচরণেও তার প্রতিফলন থাকা উচিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে দয়া করে না, তার ওপর দয়া করা হয় না।” (সহিহ মুসলিম)। তাই এই দশকে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া আল্লাহর রহমত পাওয়ার একটি বাস্তব মাধ্যম।

আরও পড়ুনঃ ইফতারের দোয়া ভুলে খেয়ে ফেললে করণীয় কী? পরে পড়া যাবে?

ইফতার করানোও রহমতের দশকের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। রোজাদারকে ইফতার করালে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়—এ কথা হাদিসে সুস্পষ্টভাবে এসেছে। (সুনানে তিরমিজি)। সামর্থ্য অনুযায়ী কাউকে ইফতার করানো বা অন্তত একজন রোজাদারের রোজা ভাঙার ব্যবস্থা করা এই দশকে আল্লাহর রহমত আকর্ষণের একটি বড় মাধ্যম।

সবশেষে বলা যায়, রমজানের প্রথম ১০ দিন হলো আল্লাহর রহমতের বিশেষ সময়। এই সময় দোয়া, ইস্তিগফার, কুরআন তিলাওয়াত, নফল ইবাদত ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। রহমতের এই দশক যদি যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে পরবর্তী মাগফিরাত ও নাজাতের দশকগুলোতেও ইবাদতে অগ্রগতি সহজ হয়।

অতএব একজন মুমিনের জন্য রহমতের ১০ দিন শুধু সময় পার করার নয়, বরং আল্লাহর দয়া লাভ করে নিজেকে বদলে নেওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই সুযোগকে আন্তরিকতা ও সচেতনতার সঙ্গে কাজে লাগানোই রমজানের প্রকৃত সফলতা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X