মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় অনৈতিক চক্রের সন্ধান, বাংলাদেশিসহ আটক ২৬

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
সংগৃহীত ছবি
expand

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বিদেশি নারীদের দিয়ে পরিচালিত যৌন ব্যবসার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। এ ঘটনায় বাংলাদেশি-থাই দম্পতিসহ ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে স্থানীয় এক ব্যক্তি ‘ক্যাপ্টেন’ বা প্রতিষ্ঠানের পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

গত বুধবার রাতে দেশটির কুচাই লামা ও জালান গেলুগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া এ অভিযান পরিচালনা করে পুত্রজায়ায় ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখার বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের একটি দল। দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর অভিযানটি চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, আটক ২৬ জনের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন থাই নারী, একজন মালয়েশীয় পুরুষ, তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ, তিনজন বাংলাদেশি নারী, ১৪ জন ইন্দোনেশীয় নারী, দুইজন ভিয়েতনামী নারী ও একজন মিয়ানমারের নারী।

তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটক বিদেশিদের কারও কাছেই মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস ছিল না।

অভিযানে চারটি বাংলাদেশি, একটি থাই ও একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এছাড়া মোবাইল ফোন, কনডম এবং কথিত ওই কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া ১ হাজার ২১৫ রিঙ্গিত নগদ অর্থও জব্দ করা হয়েছে।

জাকারিয়া শাবান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আবাসিক ও বাণিজ্যিক দুটি স্থাপনা বিদেশি নারীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিশেষ করে ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে আবাসিক স্থাপনাটিতে গ্রাহক আকৃষ্ট করা হতো।

তিনি বলেন, কথিত মূলহোতারা কর্মীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং তাদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দিতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে আবাসিক স্থাপনাটিতে গোপনে কার্যক্রম চালানো হতো।

অন্যদিকে বাণিজ্যিক স্থাপনাটির কার্যক্রম স্থানীয় এক ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি সেখানে ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, আবাসিক স্থাপনায় ৬০ মিনিটের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। আর বাণিজ্যিক স্থাপনায় ৯০ মিনিটের জন্য নেওয়া হতো ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত। তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি প্রায় দুই মাস ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

জাকারিয়া শাবান বলেন, আটক বিদেশি দম্পতি ও স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৬(১)(ডি) ধারায় অপরাধের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্য বিদেশিদের একই আইনের ৬(১)(সি) ধারায় আটক করা হয়েছে। আটকদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, তদন্তে সহায়তার জন্য আরও সাতজন স্থানীয় পুরুষকে ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

জাকারিয়া শাবান বলেন, দেশের আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত যে কোনো কর্মকাণ্ড বন্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগ কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। মালয়েশিয়ার স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank