

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শিক্ষা ভবন অভিমুখী ভূখা মিছিলে যোগদান ও সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেন কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক।
বাড়িভাড়া বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন; শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া আমরণ অনশনে ইতোমধ্যে অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েছেন।
এতে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দ হাসনাত আবদুল্লাহ ও চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা।
রোববার ভোরে শহীদ মিনারে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা দুজনকে স্বাগত জানান, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী হাসনাত ও ডা. তাসনিমের উপস্থিতি ও পরামর্শের ছবি শেয়ার করে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা আজ শহীদ মিনার থেকে শিক্ষা ভবন পর্যন্ত ‘ভূখা মিছিল’ (থালা-বাটি হাতে প্রতীকী অনশন মিছিল) বের করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
দেলাওয়ার আজিজী জানিয়েছেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবিগুলো সামনে তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, আমাদের সাত দিনের অধিক অনশন চলছে; এর মধ্যে প্রায় ১০০ জন শিক্ষক বর্তমানে আমরণ অনশনে আছেন, বাকিরা অবস্থান কর্মসূচি করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠ ছেড়ে দেব না। প্রয়োজনে রক্ত দেব তবু দাবি বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব।
ভূখা মিছিল সম্পর্কে সংগঠকরা জানান, এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ যেখানে অংশগ্রহণকারীরা খাদ্য বর্জন করে সড়কে ‘থালা-বাটি’ হাতে দাবির বাস্তবতা তুলে ধরেন। খাদ্যনির্ভরতা, ন্যায্য মজুরি ও অর্থনৈতিক নীতির অবহেলার বিরুদ্ধে এমন মিছিল সাধারণত সরকারের নজর আকর্ষণ ও সহমর্যাদা দাবি করার লক্ষ্যে হয়।
কর্মসূচিতে শিক্ষকরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় এবং খালি থালা-বাটি হাতে শিক্ষা ভবনের দিকে রওনা দেবেন এবং সেখানে সমাবেশ করবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষকদের দাবিগুলো সংক্ষেপে - মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা; ১ হাজার ৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা; কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা।
দেলাওয়ার আজিজীর ভাষ্য, ২০ শতাংশ মানে ২০ শতাংশ; ১৫০০ টাকা মানে ১৫০০-এবে কোনো রকম ছাড় বা কমানো নেই।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে অবশ্যই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলমান থাকবে- এমন কড়া অবস্থান জানানো হয়েছে।
শিক্ষক নেতারা উল্লেখ করেছেন, গতকাল পর্যন্ত অনেক শিক্ষক ক্লান্তি ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন; তবু অধিকাংশই অনশন ও অবস্থান অব্যাহত রাখছেন। আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও তারা সরকারকে বলছেন-রাশকরা অগ্রাহ্য করলে আন্দোলন আরও জোরদার করবে।
অপরদিকে সরকারি পক্ষ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি; তবে আন্দোলন ও জনসমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নজরে এসেছে বলে বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বয় চলছে এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন দেশের শিক্ষানীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কেন্দ্রীভূত হয়ে উঠেছে; আজকের ভূখা মিছিল ও শহীদ মিনার থেকে শিক্ষা ভবন পর্যন্ত জনসমক্ষে থালা-বাটি নিয়ে যাওয়া সেই দাবির তীব্র প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
