

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজনীতির মঞ্চে আত্মত্যাগ, রক্ত ও প্রতিশ্রুতির জায়গায় অগ্রভাগে থাকা তরুণ নেতারা যখন বাস্তব ক্ষমতা বণ্টনের ক্ষেত্রে অদৃশ্য হয়ে পড়েন, তখন প্রশ্ন ওঠে রাজনৈতিক ন্যায়ের ভারসাম্য নিয়ে।
ঠিক এমন এক আক্ষেপ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন: রক্ত দিতে হলে আমরা সবার আগে থাকি, কিন্তু ক্ষমতার প্রশ্ন এলে, আমাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
এই স্ট্যাটাসের সঙ্গে তিনি দুটি প্রতীকী ছবি শেয়ার করেছেন, যা রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি তীক্ষ্ণ চিত্র উপস্থাপন করে।
প্রথম ছবিটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের। সেই দিন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে আসেন অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
ছবিতে দেখা যায়, ড. ইউনূসকে বরণ করছেন নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ, উমামা ফাতেমাসহ আরও অনেকে।
দ্বিতীয় ছবিটি ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবরের—যেদিন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় "জুলাই সনদ" স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে ড. ইউনূসের পাশে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা উপস্থিত থাকলেও, প্রথম ছবির তরুণদের কাউকে আর দেখা যায়নি।
যেখানে দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো “জুলাই সনদ”-এ স্বাক্ষর করে একটি নতুন রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছেছে, সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সেই চুক্তিতে অংশ নেয়নি এবং কোনো স্বাক্ষরও করেনি। দলটির এই অবস্থান প্রশ্ন তোলে—তারা কি প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে, নাকি সচেতনভাবে দূরে থেকেছে?
হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্ট সেই প্রশ্নকেই আরও উসকে দেয়। যাদের ত্যাগ ও আন্দোলনে বর্তমান পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি, তাদের অনুপস্থিতি কী কেবল কাকতালীয়?
হাসনাতের বক্তব্য নতুন কিছু নয়, তবে সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, আন্দোলনের মাঠে যাদের ঘাম ও রক্ত, ক্ষমতার টেবিলে তাদের উপস্থিতি থাকে না। তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক শক্তি কি কেবল আন্দোলনের জন্য, নাকি তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রেও স্থান পাওয়ার যোগ্য?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি ও এর নেতৃত্বাধীন তরুণদের বিরত থাকা বা বিরত রাখা—উভয়ই আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন
