মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সন্ত্রাসী পরিবেশে’ কাজ করা অসম্ভব: মুজিবুর রহমান

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

‘সন্ত্রাসী পরিবেশে’ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্বাভাবিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার দলীয় সদস্যদের প্রকাশ্য সন্ত্রাসের ভয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিশেষ অধিকার প্রশ্নের কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৪ বিধিতে দেওয়া দুটি পৃথক লিখিত নোটিশে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন মুজিবুর রহমান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ দিনের সংসদ অধিবেশনের বৈঠক শুরু হয়।

জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের তুলে ধরা বিবরণ অনুযায়ী, প্রথম নোটিশে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান জানান, সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে তার নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য দেওয়া প্রায় শতাধিক ডিও লেটার সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়। তার দেওয়া এসব সুপারিশ বাতিল করে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের মাধ্যমে সকল কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হলে তাকে সাফ জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী এমপির সবুজ সংকেত ও ডিও লেটার ছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ডিও লেটার বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ তাদের নেই।

এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ক্ষোভ প্রকাশ করে নোটিশে মুজিবুর রহমান দাবি করেন, সরকারি দলের ক্যাডারদের সন্ত্রাসের ভয়ে কোনো কর্মকর্তা টু শব্দ পর্যন্ত করতে সাহস পাচ্ছেন না। চারদিকে তৈরি করা এমন ভীতিকর ও সন্ত্রস্ত পরিবেশে সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পক্ষে নিজস্ব এলাকা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি অধিকারবঞ্চিত জনপ্রতিনিধিদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংসদের কাছে জোর আকুতি জানান।

ডেপুটি স্পিকারের উপস্থাপিত দ্বিতীয় নোটিশে মুজিবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, প্রচলিত নিয়ম ও সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়োগের জন্য নিজস্ব প্যাডে সুপারিশপত্র দেন। সেই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী-১ আসনের গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার প্রায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মনোনয়নের জন্য তিনি লিখিত ডিও লেটার জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় সন্ত্রাসী প্রভাবের কারণে এখন পর্যন্ত একটি প্রতিষ্ঠানেও তার সুপারিশ অনুযায়ী সভাপতি নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপস্থাপিত নোটিশ দুটির বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, নোটিশ দুটির মূল বিষয়বস্তু প্রায় একই প্রকৃতির। সংসদীয় এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি জনপ্রতিনিধির মূল লক্ষ্য এবং এই ক্ষেত্রে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত উভয় আসনের সংসদ সদস্যেরই ভূমিকা রাখার সমান অধিকার রয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংসদীয় এলাকার দুজন সদস্যই যেন উন্নয়নে সমান ভূমিকা রাখতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট থাকবেন। একই এলাকায় এক জনপ্রতিনিধিকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে অন্যজনকে যাতে গুরুত্বহীন করে তোলা না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে তিনি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank