বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সচিবালয় বিলুপ্ত করা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের কর্মপরিষদের সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির
expand
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের কর্মপরিষদের সদস্য ও সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির

বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য ‘একটি কালো দিন’এবং এর মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শিশির মনির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাকশাল ও সামরিক শাসনের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ১৯৯৯ সালে মাজদার হোসেন মামলায় উচ্চ আদালতের ১২ দফা নির্দেশনার ভিত্তিতে ২০০৭ সালে বিচার বিভাগকে ম্যাজিস্ট্রেসি থেকে আলাদা করা হয়।

একই সঙ্গে বিচারকদের নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠন এবং পৃথক বেতন কাঠামো চালু করা হয়।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ৯০ দিনের মধ্যে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনের নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় সরকার অধ্যাদেশ জারি করে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে এবং তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সেটির উদ্বোধন হয়। কিন্তু পরে সরকার সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে দেয়। এর বিরুদ্ধে তারা নতুন রিট দায়ের করেন এবং আদালত অবমাননার নোটিশও দেন।

এই আইনজীবী অভিযোগ করে বলে, বিচারকদের বদলি, ছুটি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকায় বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার বা আইন মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো আদেশ দিলে বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি আটকে দেওয়া বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আশঙ্কা থাকে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধান বিচারপতির অধীনে স্বাধীন সচিবালয় গঠন করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, এমনকি তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেলও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তার দাবি, সরকার যদি সত্যিই স্বাধীন বিচার বিভাগে বিশ্বাস করে, তাহলে বিচারকদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে রাখার প্রয়োজন নেই।

শিশির মনিরের মতে, বিচারকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা আচরণবিধি রয়েছে। কেউ অনিয়ম করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। কিন্তু পছন্দমতো আদেশ না দিলে বদলি বা পদোন্নতি আটকে দেওয়ার সংস্কৃতি স্বাধীন বিচার বিভাগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, নতুন সচিবালয়ের মাধ্যমে বিচারকদের প্রশাসনিক বিষয়গুলো সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি প্রধান বিচারপতিকে বাজেট অনুমোদনের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই ক্ষমতাও বাতিল করেছে। এছাড়া বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষমতাও সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, বর্তমানে দেশে প্রতি ৭৮ হাজার মানুষের বিপরীতে একজন বিচারক রয়েছেন, যা বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় বড় সংকট তৈরি করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মানসিকতা থেকেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। স্বাধীনভাবে বিচারকদের কাজ করতে না দিলে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, বিগত সরকার যে পথ দেখিয়ে গেছে, বর্তমান সরকারও সেই পথেই হাঁটছে। তারা একই পথে চলতে থাকলে আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতোই বিদায় নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জামায়াতের এই।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহাকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন