

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেত্রকোনার পূর্বধলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা ডাককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৫৩টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বুধবার দুপুরে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহানের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত ইজারা ডাক শুরু হওয়ার কথা ছিল।
ইজারা কার্যক্রম শুরুর আগে থেকেই সম্মেলনকক্ষে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। একপর্যায়ে হাট নিয়ন্ত্রণ ও ইজারা নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ইজারা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ইজারার শর্ত পাঠের সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে হলরুমের ভেতরেই বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজনকে কিল-ঘুষি মারার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
জামায়াত সমর্থিত নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা জানান, বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলপ্রয়োগ করে সব বাজারের ইজারা নিতে চেয়েছিলেন। বাধা দিলে আমাদের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে মারধর করা হয়। কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছি।
তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামায়াতের লোকজন প্রভাব খাটিয়ে সব বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিল। তখন আমাদের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। এতে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার ঘটনা ঘটেনি। আমরা চাই উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়া হোক।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসনীম জাহান জানান, সরকারি বিধি মেনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা ডাকের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু নেতা-কর্মী হট্টগোল শুরু করেন। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
পূর্বধলা থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইজারা কার্যক্রম শুরুর সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়েছি। তবে আহত হওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি।