শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

আসন বণ্টনে দ্রুত নিশ্চয়তা চায় বিএনপির মিত্ররা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৩ এএম
বিএনপির লোগো
expand
বিএনপির লোগো

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের সহযোগী দলগুলো দ্রুত নিজেদের আসন বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস চাইছে।

তাদের দাবি যাতে মনোনয়নের নিশ্চয়তা পেলে মাঠপর্যায়ে পূর্ণ উদ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারে, আর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

তবে এখন পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ শরিককে মনোনয়নের নিশ্চিত বার্তা দেয়নি বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শরিকদের পাঠানো প্রার্থী তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে, এবং নতুন সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর খসড়াও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মিত্রদের আসন বণ্টনের বিষয়টি এখন গভীরভাবে পর্যালোচনায় রয়েছে। যেহেতু সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী শরিকদের নিজেদের দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হতে পারে, তাই এটি আরও চিন্তাভাবনার দাবি রাখে।

দলীয় সূত্র জানায়, চলতি অক্টোবরের মধ্যেই বিএনপি প্রায় ২০০ আসনে নিজস্ব প্রার্থী চূড়ান্ত করে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি মিত্রদের আসন বণ্টনও নির্ধারণে কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত ১০৩ জন প্রার্থীর তালিকা বিএনপির কাছে জমা পড়েছে -এর মধ্যে ১২ দলীয় জোটের ২১ জন, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ৯ জন, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের ১৯ জন, এলডিপির ১৩ জন, গণফোরামের ১৬ জন, এনডিএমের ১০ জন, বিজেপির পাঁচজন, লেবার পার্টির ছয়জন এবং বিপিপির চারজন প্রার্থী রয়েছেন।

তবে এখনো কোনো শরিক দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। গণতন্ত্র মঞ্চ ও গণঅধিকার পরিষদও শিগগির প্রার্থী তালিকা জমা দেবে বলে জানা গেছে -মঞ্চের প্রায় ৫০ ও পরিষদের ৩০ জন প্রার্থী এতে থাকতে পারেন।

সূত্র অনুযায়ী, শরিকদের পাঠানো প্রার্থী তালিকা লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্লেষণ করে যাচাই-বাছাই করছেন। সঙ্গে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে আরপিও সংশোধনের নতুন নিয়ম, যাতে বলা হয়েছে জোট প্রার্থী হলেও নিজ নিজ দলের প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে হবে।

বিএনপি মনে করছে, এই ধারা ‘সুষ্ঠু রাজনীতির প্রতিবন্ধকতা’ তৈরি করতে পারে, এবং তারা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মিত্রদের জন্য ৫৯টি আসন ছেড়েছিল তৎকালীন ২০ দলীয় জোটকে ৪০ এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ১৯টি। সেই সময় জামায়াতের প্রার্থীরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোটে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াত এখন বিএনপির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে নেই। ফলে বিএনপি এবার নতুনভাবে শরিক দল ও আসন বণ্টনের কৌশল সাজাচ্ছে।

দলীয় সূত্রের তথ্যমতে, শরিকদের জন্য বিএনপি এবার প্রায় ৫০টি আসন ছাড়তে পারে। তবে নির্বাচনী জোটের পরিধি বাড়লে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যেসব মিত্র দলের প্রার্থীদের এলাকায় শক্ত অবস্থান রয়েছে, বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে, বিশেষ করে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায়।

তবে কিছু শরিক দলের অভিযোগ, বিএনপি এখনো মাঠপর্যায়ে মনোনয়ন নিশ্চিত না করায় অনেক জায়গায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপি মিত্রদের মধ্যে যাদের আসন ছাড় দিতে চায়, সেসব আসনে যত দ্রুত সম্ভব জোটের প্রার্থী ঘোষণা করে দিলে প্রার্থীদের জন্য সুবিধা হয়। সেক্ষেত্রে তারা পূর্ণ উদ্যমে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়তে পারবেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন