শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোথায় হারিয়ে গেলেন হাসিনার ঘনিষ্ঠ শিরীন শারমিন চৌধুরী?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪৪ এএম আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪৫ এএম
শেখ হাসিনা ও শিরীন শারমিন চৌধুরী
expand
শেখ হাসিনা ও শিরীন শারমিন চৌধুরী

বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় সংসদ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বর্তমান অবস্থান নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তাকে কোথায় পাওয়া যাচ্ছে না- সরকারি সূত্রও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছে না। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন, তিনি স্বামীসহ গোপনে দেশ ত্যাগ করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।

সরকারের একাধিক দপ্তর জানায়, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্ত এক বছরের বেশি সময়েও শেষ হয়নি। ফলে আইনগত পদক্ষেপ নিতে দোটানায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে মতবিরোধও দেখা দিয়েছে।

শিরীন শারমিন কোথায়-এ প্রশ্ন ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কাছে। তিনি বলেন, সাবেক স্পিকারের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই। তবে যতটুকু জানি তিনি ঢাকাতেই তার ভাইয়ের বাসায় স্বামীকে নিয়ে বসবাস করছেন। তার বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পাসপোর্ট ছাড়াই তিনি স্থলপথে সীমান্তের ওপারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এখনো তার বিষয়ে আমরা কোনো ধরনের নির্দেশ পাইনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনের বিষয়টি নীতিনির্ধারক পর্যায়ের। উপর থেকে নির্দেশনা এলে অবশ্যই তার আলোকে কার্যক্রম শুরু করব। তার বিষয়ে আদালতের কোনো পরোয়ানা বা নির্দেশ পেলে অবশ্যই আমরা তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দিকে শিরীন শারমিন রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তাকে একবার গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে অজ্ঞাত কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী ‘পুতুল সংসদের’ এই স্পিকার। ছয় মাস আগে তিনি নিজের ঠিকানা পাল্টে রাজধানীর একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে নিকটাত্মীয়ের বাসায় চলে যান। সেখানে অবস্থান করে তিনি নতুন পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি দেন। ওই কাজে তাকে পাসপোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন।

আত্মগোপনে আছেন এবং আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ই শিরীন শারমিন নতুন সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে আঙুলের ছাপ এবং আইরিস দেন বলেও নিশ্চিত হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন শাখা। ধানমন্ডির যে ঠিকানা দিয়ে পাসপোর্ট করতে চেয়েছিলেন, সেখানেও তিনি অবস্থান করছেন না বলে সরকারের গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে রংপুরে এক হত্যা মামলায় শিরীন শারমিনকে আসামি করা হয়। বাদী দিলরুবা আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী মুসলিম উদ্দিনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়, এবং এ ঘটনায় সাবেক স্পিকারের নির্দেশ ছিল। মামলার তদন্ত সিআইডির কাছে থাকলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে সিআইডির ইন্সপেক্টর সামিউল আলম গণমাধ্যমকে জানান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামে করা দিলরুবা বেগমের মামলাটি সিআইডির পক্ষ থেকে আমি তদন্ত করছি। তদন্ত অনেকদূর এগিয়েছে। আশা করি দ্রুত কোর্টে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। তবে মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি ২০১৩ সালে দেশের প্রথম নারী স্পিকার হন এবং টানা চার মেয়াদে ওই পদে ছিলেন। তার সময়েই আওয়ামী সরকারের বেশ কিছু বিতর্কিত আইন ও সংসদীয় সিদ্ধান্ত পাস হয়।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরও স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের সময় তিনি জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থান করছিলেন। প্রধান বিচারপতিসহ অনেকে পদত্যাগ করলেও তিনি প্রথমে পদে বহাল থাকেন। তবে পরে ২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান, যা সঙ্গে সঙ্গে গৃহীত হয়।

সরকার পরিবর্তনের পর বিশেষ পাসপোর্ট বাতিল হলে তিনি ও তার স্বামী সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। তদন্তে জানা যায়, তারা অনলাইনে ধানমন্ডির একটি ঠিকানা ব্যবহার করে অজ্ঞাত স্থান থেকে বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দেন। পরে সেই আবেদন বাতিল করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর।

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সদস্য মো. শহিদ উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক স্পিকারের বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনব।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন