

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ঠেকাতে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, সংস্কৃতিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা বলেছেন তিনি।
সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা এবং তা ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। সেখানে এসব উদ্যোগের কথা বলেন তিনি।
শামীম কায়সার লিংকন বলেন, ‘কোনো সহিংসতা হঠাৎ তৈরি হয় না। গুজব ও অপপ্রচার কীভাবে ছড়ায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে গত এক থেকে দেড় বছরে ‘মব কালচার’ বড় একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো ঘটনা যাচাইয়ের আগেই মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।’ এ ধরনের প্রবণতা ধর্মীয় বিষয়েও দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মব কালচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে জানিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি সরাসরি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন ও সংশ্লিষ্ট প্রায় এক লাখ প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে।’
শামীম কায়সার লিংকন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দিতে হবে।’ তার মতে, ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে শুধু ধর্ম মন্ত্রণালয় নয়, সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এটি শুধু ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়; শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, সংস্কৃতিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাতে এ ধরনের ঘটনায় শুধু সংখ্যালঘুরাই নয়, মুসলমানরাও ভুক্তভোগী না হন। তাই বিষয়টি সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে।’
ধর্মীয় বিষয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গেও কথা বলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, পাঠ্যক্রমে ধর্মীয় কারিকুলাম ধর্ম মন্ত্রণালয় ঠিক করে। আসলে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রপতি একসময় বলেছিলেন, দেশের শিক্ষাক্রমে সংবেদনশীল ধর্মীয় বিষয় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব থাকা দরকার।’ তার মতে, এতে পাঠ্যক্রমে স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভব হবে।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মতে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সহিংসতা প্রতিরোধে গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ এবং শিশুদের মধ্যে সহনশীলতা ও মানবিকতার মূল্যবোধ গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


