বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম: রিজভী

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২ এএম আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত
expand
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে অনুপ্রেরণা ছিল কাজী নজরুল ইসলাম। তার গান গেয়েই রাজপথে নেমেছিলো ছাত্ররা। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যে নজরুল বিচরণ করেননি। এত বড় প্রতিভা বাংলাভাষীদের মধ্যে আর নেই।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে কাজি নজরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাতে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা যখন আজও জুলুম, নিপীড়ন ও অত্যাচারের মধ্যে পড়ি, যখন দেখি চারদিকে হতাশা ছেয়ে গেছে, দেশের আকাশে ফ্যাসিবাদ ব্যাপৃত হয়েছে—তখন আমাদের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন কাজী নজরুল ইসলাম। যত বড় শৃঙ্খল বা নিপীড়নের খড়্গই হোক না কেন, তা সমূলে উৎপাটিত করে রাস্তায় নামতে নজরুলই আমাদের প্রধান অনুপ্রেরণার উৎস।’

সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং চব্বিশের জুলাইয়ের যে গণজাগরণ—প্রত্যেকটিতেই রাজপথে থেকে যাঁরা ভয়ংকর স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছেন, দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়েছেন, সেই তরুণ-কিশোরেরা নজরুলের গান গাইতে গাইতেই রাস্তায় নেমেছেন। নজরুল তাঁদের বিশাল শক্তি জুগিয়েছেন।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজও যখন এই দেশকে নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করে, আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বিপন্ন করতে সচেষ্ট হয়, তখন তার বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠার প্রধান উৎস হচ্ছে কাজী নজরুল ইসলাম; তাঁর গান, কবিতা ও লেখনী।’

নজরুলের সাহিত্যিক অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে নজরুল বিচরণ করেননি। তবে তাঁর প্রধান পরিচয় তিনি একজন কবি। সামাজিক অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর শাণিত লেখনী ছিল কশাঘাতের মতো। রাষ্ট্রযন্ত্রে বসে থাকা ঔপনিবেশিক শক্তির চোখরাঙানি উপেক্ষা করে এই উপমহাদেশের স্বাধীনতার প্রথম সুর তাঁর মাধ্যমেই ধ্বনিত হয়েছিল। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটোগল্পকার এবং প্রায় চার হাজার গানের স্রষ্টা, যার বেশির ভাগেই তিনি নিজে সুর দিয়েছেন।

বক্তব্যের শেষে জাতীয় কবির রুহের মাগফেরাত কামনা করে রিজভী বলেন, নজরুলের বাণী বুকে নিয়েই এ দেশের মানুষ পথ চলে, যা তাদের নির্ভীক করে তোলে। বর্তমান সময়ে নজরুলের মতো মহীরুহ প্রতিভার চর্চা ও অনুশীলন অত্যন্ত জরুরি। আগামী প্রজন্মের কাছে নজরুলের চর্চা যত বাড়বে, ততটাই তাদের হৃদয়ে তা প্রবিষ্ট হবে। প্রতিটি মানুষের জীবনযাপনে নজরুল এক অবিচ্ছিন্ন অংশ।

এ সময়ে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন