

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ, চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি। এতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি ও সচিব মো. আশরাফুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করেছে। একইভাবে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যারা গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাভোগ করে নিঃস্ব হয়েছেন, রাষ্ট্র তাদের ত্যাগেরও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে চায়।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো পরিবারকে স্বজন হারিয়ে বর্বরতার শিকার হতে না হয়, সে জন্য স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ২০০৯ সালের পর ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই আদর্শ ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা জীবন দিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম হয়েছেন এবং আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে গেছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্র কী করতে পারে, সেই দায়িত্ব আমাদের ওপর বর্তায়।’
সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলি নির্ধারণকারী ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর শিডিউল-১ বা ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস’ সংশোধন করে নতুন দায়িত্বটি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে উপযোগী আইন প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রিপারেশন’ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, ভুক্তভোগী ও পরিবারের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ সংশোধন এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


