

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহীপুরে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও জেলেদের নৌযান শুমারি ২০২৬-এর সুফল সম্পর্কে অবহিত করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি। তিনি বলেছেন, শুমারিতে নৌযানের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হলে সরকারি সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি মালিকানা দাবি, ক্ষতিপূরণ, আইনি সহায়তা ও নৌযান নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও সুবিধা পাবেন মালিক ও জেলেরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) মহীপুর থানা সংলগ্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘাটে নৌযান শুমারি কার্যক্রম পরিদর্শন ও স্থানীয়দের অবহিতকরণ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি ২০২৬ পরিচালনা করছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহায়তায় ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী এ শুমারি চলছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিক লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮টি নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের সংখ্যা, ধরন, মালিকানা, নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে একটি হালনাগাদ ও সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি হবে। এটি নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ‘নৌযান শুমারিতে আপনার নৌযানের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হলে আপনারাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। সরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই তথ্য কাজে আসবে। ভবিষ্যতে বিদেশি সহযোগিতা ও উন্নয়ন সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুমারির তথ্যের ভিত্তিতে নৌযানের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর করা যাবে। নৌনিরাপত্তা জোরদার, নৌপথ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে। এতে মেরিটাইম সেক্টরে হয়রানি ও মামলা-মোকদ্দমা কমার পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার মান উন্নয়ন সম্ভব হবে।
মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে শুমারির তালিকায় নৌযানের নাম থাকলে জেলেদের সরকারি সহায়তা পেতেও সুবিধা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে নৌযানের মালিকানা দাবি, ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে শুমারির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে নৌযান নিজ নামে নিবন্ধনের সুযোগও তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নৌযানের নিবন্ধন ফি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হয়রানিমুক্ত, সহজ ও কম খরচে নৌযানের মালিকানা ও নিবন্ধন নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের সহযোগিতা করবেন।
স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দাদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলেদের নিরাপদে ঘাটে ফেরার সুবিধার্থে সাগর ও নদীর মোহনায় একটি লাইটহাউজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নৌযানের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নেওয়া হবে। জেলেদের অবকাশকালীন সরকারি বরাদ্দের প্রণোদনা যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি। এ ছাড়া অবৈধ ট্রলিং জাহাজ বন্ধের বিষয়েও স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরে প্রতিমন্ত্রী ঘাটে থাকা একটি ফিশিং বোটে উঠে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি শুমারিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এই শুমারি সফল করা সম্ভব নয়। নৌযান শুমারি সফল হলে এর সুফল সরাসরি আপনাদের কাছেই পৌঁছাবে।’
পরে প্রতিমন্ত্রী সাধারণ জেলেদের সঙ্গে ফিশিং বোটে দুপুরের খাবার খান। খাবার শেষে তিনি নৌযানে করে নদী ও সাগরের মোহনা পরিদর্শন করেন এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


